রমজান উপলক্ষে ১ টাকা লাভের দোকান

রমজান এলেই খাদ্য মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। তবে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরশহরের এস এ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল ইসলাম সুমন। তিনি পুরো রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মাত্র ১ টাকা লাভে বিক্রি করছেন। এতে ইতিমধ্যে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। কম দামে কিনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। দোকানটি পরিচিতি পেয়েছে ‘১ টাকা লাভের দোকান’ হিসেবে। বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পাশেই তার এই দোকান। রমজানের ১ দিন আগে থেকে তার এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু হয়, যা চলবে ঈদ পর্যন্ত।

স্থানীয়রা জানান, এস এ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল ইসলাম রমজান মাসের শুরু থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মাত্র ১ টাকা লাভে বিক্রি করছেন। তার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ছোলা, মুড়ি, চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, খেজুর, ডিম, শিশুখাদ্য, লবণসহ প্রায় ২০০ পণ্য।

জলিল আলী নামে দোকানের এক ক্রেতা বলেন, ‘১ টাকা লাভের দোকানে মালপত্র কিনে অনেক শান্তি পাচ্ছি। কোনো দামদর করতে হয় না। পণ্যগুলো পাইকারি যে দামে কিনেন, তার থেকে ১ টাকা লাভে বিক্রি করেন। সে কারণে তিনি অনেক ব্যবসায়ীর বিরাগভাজনে পরিণত হয়েছেন। তবে ক্রেতারা খুশি। ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করায় ক্রেতারা কেজিতে প্রকারভেদে কোনো কোনো পণ্য সর্বোচ্চ ১৫ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন।’

ক্রেতা গোলাম রসুল বলেন, ‘আমি গত রমজান মাসে এখানে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো ক্রয় করেছিলাম। এখান থেকে ক্রয় করার সুবিধা হচ্ছে স্বল্পমূল্যে পণ্যগুলো কিনতে পারছি। সাধারণত আমাদের দেশে রমজানে আসলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আমাদের এই ভাইয়ের এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের জন্য খুবই উপকারী।’

আরেক ক্রেতা মো. রশিদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে এই দোকান থেকে পণ্য কিনি। যেখানে রমজান মাস এলে আমাদের দেশের বেশিরভাগ দোকানদার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, সেখানে তিনি মাত্র ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করছেন, বিষয়টি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগটি আরও বাড়ানো উচিত।’

বৃদ্ধ ক্রেতা আবুল হাসান বলেন, ‘আমার আয় সীমিত। পেনশনের টাকায় সংসার চালাই। বাজারে গেলে অনেক সময় জিনিস কেনা সম্ভব হয় না। এখানে আসলে পণ্যগুলো কম দামে পাচ্ছি। রমাজান মাসে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।’

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নাজমুল ইসলাম (সুমন স্যার) বলেন, ‘পবিত্র রমজান উপলক্ষে গতবার এই পদ্ধতি চালু করেছিলাম। সাধারণ মানুষদের উপকার করতে পারলে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাকে সুস্থ রাখলে, বেঁচে থাকা পর্যন্ত আমি জনসাধারণ জন্য প্রতিবছরে এই অফারটি দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শিক্ষক ছিলাম। দীর্ঘ ২৬ বছর শিক্ষকতা করেছি। কয়েক বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে তিন বছর বিছানায় পড়ে ছিলাম। তখন থেকে জনসাধারণের জন্য কিছু উপকার করব বলে মনে মনে ঠিক করি। এই চিন্তা থেকেই সুস্থ হওয়ার পরপরই এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। বর্তমানে দোকানটি নিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমার দোকানে কোনো কর্মচারী নেই। দোকান খোলা এবং বন্ধ সব কাজেই আমাকে ক্রেতারা সাহায্য করেন। অনেক ব্যবসায়ী ক্রেতাদের বলেন আমার দোকানের পণ্য নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ। আসলে তাদের অভিযোগ সত্য নয়। তারা আসলে প্রতিহিংসাবশত এ ধরনের সমালোচনা করে। গ্রাহকরা যখন আমার দোকানে এসে যাচাই করে পণ্য নেন, তখন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন।’