মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারে। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে মিলছে না ডিজেল ও অকটেন। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় পরিবহন চালকরা।
শনিবার (৭ মার্চ) গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই ডিজেল ও অকটেন নেই। কোথাও কোথাও পাম্প খোলা থাকলেও মোটরসাইকেলে সামান্য পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানেও তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে চালকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক আবার তেলের না পেয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার কয়েকটি পাম্প ঘুরে মাত্র দুইশ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
তবে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় পরিবহন ও ভাড়ার গাড়িগুলো। ডিজেল ও অকটেন না পাওয়ায় অনেক গাড়ি সড়কে নামতে পারছে না। এতে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গোপালগঞ্জ শহর থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত চলাচলকারী তাউসিয়া-তানহা লোকাল পরিবহনের চালক নাজমুল ইসলাম জানান, ভাটিয়াপাড়া থেকে বিভিন্ন পাম্প ঘুড়ে তেল না পেয়ে তিনি গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গার একটি ফিলিং স্টেশনে এসেও তিনি ডিজেল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে জ্বালানি তেলের মজুদ ও কৃত্রিম সংকট রোধে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মনিটরিং করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম যেন না হয়। সে জন্য নিয়মিত পাম্পগুলো তদারকি করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।