ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। হামলায় একটি আবাসিক পাঁচতলা ভবনের একটি প্রবেশদ্বার অংশ পুরোপুরি ধসে পড়ে—প্রথম তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত—ফলে বহু বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলে, এছাড়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার মা রয়েছেন। শুক্রবারের (৬ মার্চ) এই হামলায় আরও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এখনও কিছু মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
খারকিভ আঞ্চলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়া এই হামলায় ‘ইজদেলিয়ে–৩০’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার) এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, 'জীবনের ওপর এই নৃশংস হামলার জবাব আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দিতেই হবে।' তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়ানা বেতসা এই হামলাকে 'রুশদের দ্বারা শিশুদের ওপর আরেকটি গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনায় এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ইউক্রেনের পক্ষে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ ইউক্রেনে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ২৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার দখল করা নতুন ভূখণ্ডের পরিমাণ গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।