অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামে রোববার ফিলিপাইনের কাছে ২-০ গোলে হেরে নারী এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইরান। তবে মাঠের হারের চেয়েও বড় সংকট এখন তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের 'অসম্মানের চরম শিখর' এবং 'যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী' হিসেবে অভিহিত করেছে।
গত ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইরানি ফুটবলাররা জাতীয় সংগীতের সময় নীরব ছিলেন। দেশটিতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শাসনের বিরুদ্ধে এটি একটি 'নীরব প্রতিবাদ' হিসেবে দেখা হয়।
এরপরই ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের একজন ধারাভাষ্যকার এই কাজকে দেশপ্রেমের অভাব এবং 'চরম বেইমানি' বলে উল্লেখ করেন। সংবাদে বলা হয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের সাথে আরও কঠোর আচরণ করা উচিত। ইরানে 'দেশদ্রোহিতা' একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হওয়ায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম ম্যাচের সেই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং আজ ফিলিপাইনের বিপক্ষে ম্যাচে খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং সামরিক কায়দায় স্যালুট জানিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীদের ধারণা, দেশে থাকা পরিবারকে রক্ষা করতে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের চাপে পড়েই তারা সুর পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন।
খেলোয়াড়দের জীবন ঝুঁকির মুখে থাকায় তাদের অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এতে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের কাছে আবেদন করা হয়েছে যেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়কে জোরপূর্বক ইরানে ফেরত পাঠানো না হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া ইরানি নারীদের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের পাশে আছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে সরকার এখনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের ইউনিয়ন ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছে। মানবাধিকার নীতি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া ফুটবল সংস্থাগুলোর দায়িত্ব বলে তারা মনে করিয়ে দিয়েছে।