সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বাঁচা–মরার ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯। দুটি ইনিংসই ম্যাচ জেতানো। কিন্তু সেন্চুরি তো হচ্ছে না সন্জু স্যামসনের।
তাহলে সেন্চুরিটা ফাইনালের জন্য রেখে দিয়েছেন সন্জু!
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালেও তো হলো না। তিনি আউট হয়ে গেলেন ৪৬ বলে ৮৯ রান করে। কিন্তু তার ওই ইনিংসেই তো ভারত করলো ২৫৫ রান। যার ওপর ভর করে ফাইনাল জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পর নিজের আবেগের কথা জানাতে গিয়ে সন্জু স্যামসন বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারকে।
টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্যামসন জানান যে, তার এই বদলে যাওয়ার পেছনে গত কয়েক মাসের এক গভীর সাধনা কাজ করেছে। স্যামসনের পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ দলে থেকেও একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতায় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে মনে হয়েছিল তার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
সঞ্জু জানান যে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিয়মিত শচীন টেন্ডুলকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে শচীনের কাছ থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। স্যামসনের ভাষায়, "শচীন স্যারের মতো একজনের কাছ থেকে গাইডেন্স পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার"।
"এটি একটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে," বলেন আবেগাপ্লুত স্যামসন। বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর তার জন্য বড় কিছু লিখে রেখেছিলেন এবং স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলেন বলেই আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন।
স্যামসন বেশ কিছু মাইলফলক স্পর্শ করেছেন:
সর্বোচ্চ রান: এক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন স্যামসনের। তিনি ২০২৬ আসরে ৮০.২৫ গড়ে মোট ৩২১ রান করেছেন, যা ২০১৪ সালে গড়া বিরাট কোহলির ৩১৯ রানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
সেমিফাইনাল ও ফাইনালের নায়ক: শাহিদ আফ্রিদি (২০০৯) এবং বিরাট কোহলির (২০১৪) পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দুউ ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন তিনি।
প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: কোহলি এবং জাসপ্রিত বুমরাহর পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন স্যামসন।