ভোলায় চরে গরু চরাতে গিয়ে যুবক গুলিবিদ্ধ

ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা একটি চরে গরু চরাতে গিয়ে মো. সুমন (৩০) নামে এক যুবক ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। তার কাঁধে চারটি ছররা গুলি লাগে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। গতকাল রবিবার ভোরে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ‘ভোলারচর’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সুমন রাজাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসির সর্দারের ছেলে।

সুমনের স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর নতুন করে নদীর বুকে জেগে ওঠে ‘ভোলারচর’। সেখানে স্থানীয় ভূমি মালিকরা চাষাবাদ করছেন এবং কেউ কেউ জমি নগদ খাজনায় কৃষকদের কাছে লিজ দিয়ে থাকেন। বর্তমানে চরটির প্রায় ২০০ একর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র ওই চর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং চাষিদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। রবিবার ভোরে সুমন ও তার কয়েকজন চাচাতো ভাই চরে গরু চরাতে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া একদল অস্ত্রধারী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সুমনের শরীরে চারটি ছররা গুলি লাগে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

এর আগে শনিবার চরটি দখলের আশঙ্কায় সুমনের চাচাতো ভাই মো. রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

আহত সুমন অভিযোগ করেন, তাদের পরিবারসহ স্থানীয় অনেকের জমি ওই চরে রয়েছে। তারা নিজেরা চাষাবাদ করছেন এবং অন্য জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে

কৃষকরা তরমুজ চাষ করেছেন। বর্তমানে তরমুজ কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। তিনি দাবি করেন, আংটি সেলিম, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁ ও ইকরামসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, চরের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন ছররা গুলিতে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।