গোপালগঞ্জে ৩ ভাই ও দুলাভাইয়ের হামলা-মামলায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিলখী গ্রামের তিন ভাই ও তাদের দুলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা এবং হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর একটি থানায় কর্মরত এএসআই আসাদুজ্জামান ফকির ওরফে আসালত, প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক আহাদ আলী ফকির, সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত শাহিদ আলী ফকির (সাধু) এবং তাদের দুলাভাই স্কুল শিক্ষক আজিজুল কাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখান এবং তুচ্ছ ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকেন। এমনকি মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তরা অন্যের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং জমিতে লাগানো গাছপালা উপড়ে ফেলছেন। এমনকি বোনের ভাগের জমিতে বোনের ছেলেরা ধান চাষ করলে তাদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া তাদের সৎ বড় ভাইকে লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দিয়ে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ সৎ ভাইয়ের। 

ভুক্তভোগী নিলখী গ্রামের মাদরাসা শিক্ষিকা স্বপ্না আক্তার জানান, তার পিতার থেকে পাওয়া একখণ্ড জমি অভিযুক্তদের বাড়ির পেছনে। সেই জমিতে কোন ফসল আবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা রামদা নিয়ে তেড়ে আসে। এছাড়া অভিযুক্তদের বাড়ির পেছনের রাস্তা দিয়ে মাদরাসায় যাওয়া-আসার সময় তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য গালাগাল দেয় এবং মাঝেমধ্যেই রামদা নিয়ে ধাওয়া করে। তার জমিতে থাকা কিছু নারিকেল, শিরিশ, সুপারি সহ ফলের গাছও অভিযুক্তরা রাতের আধারে উপড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ তার।

আরেক ভুক্তভোগী সামুরা মোল্লা জানান, আসাদুজ্জামান ফকির ওরফে আসালত পেশায় এ এস আই। সে প্রায়ই হুমকি দেয়, সে নাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকুরি করেন, সে বিএনপির কর্মী। বাড়িতে আসলে প্রায়ই সে ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষকে পেলে রামদা নিয়ে তাড়া করে। এরপর নিজেই অবার ত্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে অভিযোগ করে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানি করে। মিথ্যা মামলা দিয়ে, মামলা তুলে নেয়ার জন্য মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। আর এই ৩ সহোদর এবং তাদের দুলাভাই স্কুল শিক্ষক আজিজুল কাজী একই সঙ্গে যোগসাজসে এই অপকর্ম গুলো করছে বলে অভিযোগ তার। 

অভিযুক্তদের বোনের ছেলে ফাহিম হাসান অভিযোগ করেন, তার মা নানাবাড়ি থেকে ভাগে যে সম্পত্তি পেয়েছেন, সেখানে চাষবাদ করার পর তার অভিযুক্ত ৩ মামা রাম দা দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে ধান কেটে নিয়ে গেছে।  

একই রকমের হয়রানির অভিযোগ করেন নিলখী গ্রামের মোহন মোল্লা, লালন ফকির, মোর্শেদুল আলম ও লুৎফর রহমান।

এদিকে ভুক্তভোগী আরাফাত মোল্লা জানান, গত ৫ মার্চ দুপুরে রাস্তায় আড্ডা দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ফকির ও তার ভাইয়েরা রামদা নিয়ে তাড়া করে। এরপর তাদের বাড়িতে এসে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ বিষয়ে ৭ মার্চ গোপালগঞ্জ সদর থানায় তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।  বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত আহাদ আলী ফকিরের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তার বাড়ির দিকে গেলে তিনি সাংবাদিক দেখে দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করেন। পরে তার সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

অভিযুক্ত এই তিন ভাই ও তাদের দুলাভাইয়ের হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।