দেশীয় চলচ্চিত্রের মিষ্টি ও মমতাময়ী অভিনেত্রী হিসেব দর্শকের মনে স্থান করে নেয়া রোজী আফসারীর (শামীমা আক্তার রোজী) মৃত্যুর ১৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৭ সালের এই দিনে (৯ মার্চ) কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৭ বছর বয়সেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
কিন্তু ১৯ বছরেই আমরা যেন রোজীর মতো চলচ্চিত্র আকাশের উজ্জ্বল তারকাকে ভুলতে বসেছি। তার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কোনো আয়োজন নেই কোনো খানে। এমনকি বছরের পর পর বছর ধরে তার জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীর বিষয়টিও যেন মনে থাকে না কারো। বাংলাদেশ শিল্পী সমিতিকে নিরব থাকতে দেখা যায় প্রতিবছর।
১৯৪৬ সালের ২৩ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সত্তর-আশির দশকের আলোকিত এই অভিনেত্রী। অভিনয়জীবন শুরু করেন ১৯৬২ সালে রোজী সামাদ নামে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় স্বামী মালেক আফসারীর নামের শেষাংশ ব্যবহার করেন নিজের নামের শেষে। সেই থেকে রোজী আফসারী হয়ে ওঠেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অভিনেত্রী রোজী ১৯৬২ সালে আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ‘জোয়ার এলো’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হানের ‘সঙ্গম’ ছবিতে প্রথম দেখা যায় তাকে। এটিই ছিল তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি। এখানে অভিনেতা খলিলের বিপরীতে নায়িকা হন রোজী৷ তবে তিনি জনপ্রিয়তা পান নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘আলোর মিছিল’- এ অভিনয় করে।
রোজী আফসারী অভিনয়জীবনে ৪ দশক ধরে ৩৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের ‘জাগো হুয়া সাবেরা’, ‘পুনম কি রাত’সহ ২৫টি উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সূর্য গ্রহণ’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘জীবন থেকে নেয়া’। ভারতের প্রখ্যাত পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন রোজী।
এছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ওরা ১১ জন’, ‘লাঠিয়াল’, ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘অশিক্ষিত’, ‘প্রতিকার’ ইত্যাদি। তার সর্বশেষ অভিনীত ছবি ‘পরম প্রিয়’ ২০০৫ সালে মুক্তি পায়।
১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন রোজী আফসারী। রোজী ফিল্মস নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক সিনেমাও নির্মাণ করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন এক মেয়ে ও এক ছেলের জননী।