সিএনজিচালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বাসশ্রমিকরা। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা জেলা বাসশ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা ভোলা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে পুলিশের অনুরোধে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। হঠাৎ ধর্মঘটের কারণে ঈদকে সামনে রেখে এ রুটে চলাচলকারী ভোলার সাত উপজেলার শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাসশ্রমিকদের অভিযোগ, গতকাল সকাল ১০টার দিকে চরফ্যাশনের টিবি স্কুল এলাকার সামনে সিএনজিচালকদের একটি দল তাদের একটি যাত্রীবাহী বাস আটকে চালক ও হেলপারকে মারধর করে। একই সঙ্গে চরফ্যাশন বাজারে বাস মালিক সমিতির ডিপোতে গিয়ে বাস বের করে দেওয়া, কাউন্টার ভাঙচুর এবং সুপারভাইজারকে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন।
ভোলা জেলা বাসশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিএনজিচালকরা তা অমান্য করে বাসশ্রমিকদের ওপর হামলা করছে। শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ভোলা-চরফ্যাশন রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
ভোলা বাস মালিক সমিতির ডিপো কর্মকর্তা অসীম দত্ত বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশার নেতারা জোরপূর্বক বাস মালিক সমিতির ডিপো থেকে বাস বের করে দেয় এবং কাউন্টার ভাঙচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তবে ভোলা জেলা সিএনজি ও হালকা যান মালিক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিএনজির কেউ বাস শ্রমিকদের মারধর করেনি কিংবা ডিপো থেকে বাস বের করে দেয়নি। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস সরানো হয়েছে।
ভোলার শহর ও যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল গণি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ তুলে দেয়। বর্তমানে বাস ও সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিক রয়েছে।