তারেক রহমানের কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তার প্রথম পদক্ষেপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ : অর্থমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমানের কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মানের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে মূল্যায়নের জন্য প্রথমে বেছে নেওয়া হয়েছে আমাদের পরিবারের নারী প্রধানকে। কারণ তাকে যদি ক্ষমতায়ন করা না যায়, তার সক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা বাড়ানো না যায় তাহলে আগামীর বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারবো না। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের সুফল শুধু কিছু উপরের মানুষ পাবে বাকিরা পিছিয়ে থাকবে এ ধরণের অর্থনীতি আমরা বাংলাদেশে চলতে দেবোনা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমান বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষ। হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ-তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে সবার আগে। তিনি বলেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, ইতিমধ্যে মানুষের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবার জন্য আমরা প্রকল্প গ্রহণ করেছি, খাল খননের কর্মসূচী শুরু হয়ে গেছে। আমাদের যে নির্বাচনী ওয়াদা জনগনকে দিয়েছিলাম সরকারের গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি। আগামীদিনে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। 

আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে সক্ষমতা আছে  সেই সক্ষমতায় এত বড় একটি প্রকল্প, চার কোটি পরিবারের কাছে একটি ফ্যামিলি কার্ড যাবে, আড়াই হাজার টাকা করে- এটা হিসাব করলে যে অংক দাঁড়ায় তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতায় আছে কিনা তা অনেকের মনে সন্দেহ ছিল। কিন্তু আমরা নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য এবং পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য, পিছিয়ে পড়া নারীদের অর্থনীতির সাথে সমন্বিত করার জন্য আমাদের সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতা সত্বেও বাজেটের একটি বড় অংশ এই প্রকল্পের জন্য দিয়েছি-এটা অনেক বড় বিষয়। অনেকে প্রশ্ন করেছে- আসলে কি সক্ষমতা আছে, এতগুলো পরিবারকে কি এই টাকা দেওয়া যাবে? আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের সেই সক্ষমতা আছে যদি আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভালো থাকে। 

তিনি বলেন, আমরা জনগণের সাথে যে কমিটমেন্ট করেছি, জনগণের স্বার্থে যে কাজগুলো করবো বলেছি সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। একটা কথা আমরা বহুদিন ধরে বলে এসেছি যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু কার্যক্রমে এটা আমরা কোনদিন বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এই প্রথম বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফল দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। ৫৫৭৫ টি পরিবারের নারী প্রধানদের একাউন্টে ইতিমধ্যে এই টাকা জমা হয়ে গেছে। তাদের কিছু করতে হয় নাই, কারো কাছে যেতে হয় নাই, কারো কাছে চাইতে হয় নাই। সরকার নিজ উদ্যোগে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে সার্ভে করে বের করেছে সবচেয়ে বেশি হতদরিদ্র কারা? আমরা হতদরিদ্রদের দিয়ে এই কর্মসূচী শুরু করেছি। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, যাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে সেখানে কোন দলীয়করণের সুযোগ ছিলনা। অতীতে দেখা গেছে সরকার দলীয় লোকজনই এসব সুবিধা পায়। কিন্তু এই কার্যক্রমের কোন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সংযুক্ত ছিলনা। সরকারি কর্মকর্তারা নিদ্বিধায় নিবিঘ্নে এই কাজটা করেছে যার জন্য দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সুযোগটা আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি। আগামীদিনে দরিদ্র জনগোষ্টীর জন্য যেসব সেবামূলক কার্যক্রম আসবে সবগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে দলীয় কোন কর্মী জড়িত থাকবেনা। তারেক রহমান সাহেব ওয়াদা করেছেন আমরা একটা স্বচ্ছ সরকার দিতে চাই। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কোন সভা সমিতিতে একসাথে এত মহিলার সমাগম দেখিনি। আজ আপনারা পুরুষকে হারিয়ে দিয়েছেন। আমার রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রজেক্ট করেছি অনেক প্রজেক্ট দেখেছি, কিন্তু আজকের এই কর্মসূচীতে আমির ভিন্ন অনুভূতি পাচ্ছি। বহু কাজ করেছি কিন্তু এই অনুভূতি কোনদিন পাইনি। আমার রাজনৈতিক জীবনে এটি একটি মাইলস্টোন হিসেবে থাকবে। 

তিনি বলেন, আমাদের দেশের মহিলারা সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘুমানো পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করে। একজন গৃহকত্রী সারাদিন পরিবারকে যে সেবা দেন সেটার মূল্যায়ন আমরা কোনদিন করতে পারিনি। সবাই বেতন নিয়ে বাড়িতে আসে, কিন্তু এই নারী প্রধানদের কোন বেতন নাই। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই নারী প্রধানদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি অর্থনৈতিক শক্তি পরিবারের নারী প্রধানদের দিতে পেরেছি। এখন আর স্বামীর পেছনে দৌঁড়াতে হবেনা, ছেলের পেছনে দৌঁড়াতে হবেনা। এরপর ক্রমান্বয়ে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ, মধ্যবিত্ত- এভাবে উপরের দিকে উঠতে থাকবে।