ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে প্রাণনাশের শঙ্কায় আছেন ইরানের নারী ফুটবলাররা। ইতোমধ্যেই কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তাদের একজন আবার সিদ্ধান্ত বদলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্কের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি স্পোর্টস।
আজ বুধবার পার্লামেন্টে টনি বার্ক বলেন, “গত রাতে যারা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদের মধ্যে একজন পরে কিছু সতীর্থের সঙ্গে কথা বলে মত পরিবর্তন করেছেন।”
এর আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইরানের নারী ফুটবল দলের এক খেলোয়াড় ও এক সাপোর্ট স্টাফ অস্ট্রেলিয়ায় থাকার আগ্রহ দেখান। তারা ইতিমধ্যে মানবিক ভিসা পাওয়া আরও পাঁচ খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। মন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ওই সদস্য পরে সতীর্থ ও কোচের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পরামর্শে তিনি ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। আমরা সেই প্রেক্ষাপটকে সম্মান করি, যার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তবে এর ফলে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ ইরানি দূতাবাস তখন জেনে যায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চাওয়া অন্য সদস্যরা কোথায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পরপরই আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় দলটির কয়েকজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের মানবিক ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে দুই সদস্যমোহাদ্দেসেহ জোলফি এবং সাপোর্ট স্টাফ জাহরা সোলতান মেশকেহ টিম হোটেল থেকে আলাদা হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার আগ্রহ দেখান। তাদের ব্রিসবেনে একটি পুলিশ স্থাপনায় নেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী বার্ক জানান, যারা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন তাদের দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে সিডনি বিমানবন্দরে দলের বেশিরভাগ সদস্যকেই দেশটিতে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশও উপস্থিতি ছিল।
মন্ত্রী বার্ক বলেন, “প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে দোভাষীসহ একান্তে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা চাইলে পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে পেরেছেন।”
তবে বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই শেষ পর্যন্ত ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে দলের হোটেল থেকে বাস বের হওয়ার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাস আটকে প্রতিবাদ জানান। তারা ফুটবলারদের ইরানে না ফেরার আহ্বান জানাচ্ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের মানবিক ভিসা কর্মসূচির আওতায় আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা দেশটিতে বসবাস, কাজ এবং পড়াশোনার সুযোগ পান। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ানদের নাড়া দিয়েছে। তারা এখানে নিরাপদ এবং এখানে নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করা উচিত।”