যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কোনোভাবেই বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না।
বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে হত্যা করেছে। এমন অবস্থায় ওই দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ‘কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়’।
'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান দলকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত',- ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এমন কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান এই ঘোষণা দিলো।
২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের শহরে হওয়ার কথা, যার মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানজুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘাতের প্রথম ১২ দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
দোনিয়ামালি বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পর এমন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
ইরান সরকার থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে এটাই প্রথম সরাসরি বক্তব্য। এর আগে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত সপ্তাহে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যদিও তখন সরাসরি বয়কটের ঘোষণা দেননি। তিনি বলেন, হামলার পর বিশ্বকাপকে স্বাভাবিকভাবে দেখার মতো পরিস্থিতি নেই। এমন অবস্থায় কোনো সুস্থ মানুষই জাতীয় দলকে এমন জায়গায় পাঠানোর কথা ভাববে না।