যুদ্ধের মাঝেও ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র: ফিফা প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরান জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বুধবার তিনি জানান, টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ।

তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইরানের কিছু কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশের পরিস্থিতির প্রভাব দলের অংশগ্রহণের ওপর পড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে মন্তব্য করেন, '৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টে ইরান খেলবে কি না, তা নিয়ে তার কিছু যায় আসে না।'

এরই মধ্যে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন তিনি। সেই আলোচনায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। যদিও ভ্রমণ নীতির প্রথম ধাপ ঘোষণার সময় ইরানের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইনফান্তিনো বলেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনায় এসেছে এবং যেহেতু দলটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট মানুষকে একত্র করার সুযোগ তৈরি করে এবং বর্তমান সময়ে এমন আয়োজনের গুরুত্ব আরও বেশি।

এদিকে ফিফার বিশ্বকাপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও টুর্নামেন্ট পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। এত বড় একটি আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ফিফা প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আশা করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা সব দলই অংশ নিতে পারবে।
প্রসঙ্গত, আয়োজক দেশ কোনো দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানালে ফিফা সেই দেশের কাছ থেকে আয়োজকত্ব প্রত্যাহারও করতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালে ইন্দোনেশিয়া অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে ইসরায়েল দলকে খেলতে দিতে রাজি না হওয়ায় ফিফা তাদের কাছ থেকে টুর্নামেন্টের আয়োজনের দায়িত্ব সরিয়ে নেয় এবং প্রতিযোগিতাটি আর্জেন্টিনায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত