সরকারি জমি দখল করে ভবন

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার নওপাড়া বাজার এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) মালিকানাধীন জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সরকারি জমি দখল করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের পূর্ব নওপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে তিন উপজেলার ১২২ ব্যক্তি মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরিত একটি  অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ পত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওপাড়া বাজার। লৌহজং, সিরাজদীখান ও শ্রীনগর এ তিন উপজেলার মিলনস্থল এটি। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। বাজার থেকে প্রতিবছর সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। এ ছাড়াও নওপাড়া বাজার সংলগ্ন কৃষকদের আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে দুটি হিমাগার, স’ মিল, রাইস মিলসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে  তিন উপজেলার সংযোগস্থল ও ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়ক এটি। এখান দিয়ে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। প্রধান সড়কের পাশেই স্থানীয় বাতেন মিয়া একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণকাজ করছেন। ভবনটির কারণে প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে প্রবেশের প্রধান পথ এবং পাশ দিয়ে চলমান লৌহজং-শ্রীনগর-সিরাজদীখান রুটের জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা অবশিষ্ট না রেখে বহুতল মার্কেটের নির্মাণকাজ চলছে।

এ বিষয়ে বাতেন মিয়ার সঙ্গে গ্রামবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করলে তিনি কোনো কর্ণপাত করেন না। যারা যোগাযোগ করেন তাদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন এবং তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম- বাতেন মিয়ার ভাগ্নে দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে ৬ মাস আগে ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাই এলাকা ও বাজারের স্বার্থে লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদীখান সংযোগ প্রধান সড়কের যানজট নিরসনের জন্য এলাকাবাসী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনুরোধ জানান।

স্থানীয় নূর হোসেন মোল্লা বলেন, ভবনটির কারণে ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ত করা যাবে না। ফলে সরু রাস্তায় যানজট লেগেই থাকবে।

নওপাড়া বাজার দোকান মালিক বিপ্লব বেপারী জানান, বাজারটিতে প্রায় ৬০০ দোকান রয়েছে। তিন উপজেলার মানুষ এখানে কেনাবেচা করতে আসেন। সেখানে বাজারের প্রবেশমুখে ভবন নির্মাণ করায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে ভবন মালিক বাতেন মিয়া বলেন, ‘ভবন খাসজমি ও রাস্তার জায়গায় পড়ে থাকলে আমি আর কাজ করব না। আমি এ কথা ইউএনওকে বলে এসেছি।’

লৌহজং উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা না রেখে অভিযুক্ত বাতেন মিয়া ভবন নির্মাণ করছেন, যা ভবন নির্মাণের নীতিমালা পরিপন্থী। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার জায়গা চিহ্নিত করে দেখা গেছে, ভবনটি সরকারি রাস্তার অংশবিশেষ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ‘ভূমি অফিসের লোক পাঠিয়ে মেপে দেখা গেছে নির্মাণাধীন ভবনটি নিজস্ব জায়গার বাইরে খাসজমি ও এলজিইডির জায়গা দখল করে তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি পুলিশ পাঠিয়েও নির্মাণকাজ থামানো যাচ্ছে না। তাই বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নোটিস পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’