চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনের মাঠে একসময় পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তের গোলে ১–১ সমতায় ম্যাচ শেষ করে স্বস্তি নিয়ে ফিরেছে লন্ডনের দলটি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যায় লেভারকুসেন। আলেক্স গ্রিমালদোর নেওয়া কর্নার থেকে দলের অধিনায়ক রবার্ট আন্দরিখ হেড করে বল জালে জড়ান। এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল।
গোলটি হওয়ার আগে থেকেই কর্নার ও সেট-পিস নিয়ে দুই দলের কোচিং স্টাফের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আর্সেনালের সেট-পিস কোচ নিকোলা জোভার মজা করে লেভারকুসেনের কোচ ক্যাসপার হিউলমান্ডকে বলেন, “আপনারাও তো এটা করেন, তাই না?”
এর আগে হিউলমান্ড সংবাদ সম্মেলনে আর্সেনালের কর্নার নেওয়ার কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, কর্নারের সময় খেলোয়াড়দের শরীর ব্যবহার করে জায়গা তৈরি করা কতটা নিয়মের মধ্যে পড়ে—সেই প্রশ্নই তুলেছিলেন তিনি।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও ধৈর্য হারায়নি আর্সেনাল। ৮৯তম মিনিটে সমতা ফেরান জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন তিনি। বক্সের ভেতর আর্সেনালের বদলি খেলোয়াড় নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় দলটি।
তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল লেভারকুসেনের খেলোয়াড়দের। তাদের দাবি, মিডফিল্ডার মালিক টিলম্যানের শরীরের সঙ্গে মাদুয়েকের পায়ের সামান্য সংযোগ হয়েছিল, যা পেনাল্টি হওয়ার মতো ছিল না।
আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতা ম্যাচ শেষে বলেন, “ম্যাচে দুই ধরনের পরিস্থিতি ছিল। প্রতিপক্ষ আমাদের দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু আমরা আগেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। গত সপ্তাহের ম্যাচের তিনটি ভিডিও ক্লিপ খেলোয়াড়দের দেখানো হয়েছিল। তবু আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।”
প্রথমার্ধে অবশ্য আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। দলের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
এদিকে অধিনায়ক বুকায়ো সাকার পারফরম্যান্স খুব ভালো না হওয়ায় তাকে তুলে নেন আর্তেতা। তার বদলি হিসেবে নামা মাদুয়েকেই পরে পেনাল্টি আদায় করেন। মাদুয়েকে ম্যাচ শেষে বলেন, “আমি ঠিক জানি না কী হয়েছিল। শুধু অনুভব করেছি আমার সঙ্গে সংযোগ হয়েছে, এরপর পড়ে যাই এবং রেফারি পেনাল্টি দেন।”
পেনাল্টি নেওয়ার সময় চাপ সামলে গোল করেন হাভার্টজ। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে তার এই গোলেই শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ায় আর্সেনাল। এই ড্রয়ে দ্বিতীয় লেগের আগে তারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানেই রইল। আগামী সপ্তাহে লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে।
আর্তেতা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, দ্বিতীয় লেগে দল আরও ভালো খেলবে। তিনি বলেন, “আবেগের দিক থেকে আমরা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছি। তবে আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে হবে। দ্বিতীয় লেগে আমরা কিছু পরিবর্তন আনব।”