জাবি শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ সাইবার আক্রমণ, শাস্তির দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে অনলাইনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও নিপীড়নের হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি শাখা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

বুধবার (১১ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. রেদওয়ান সিকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতিটি দেওয়া হয়। 

যৌথ এ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি শখার সভাপতি অদ্রি অঙ্কুর ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ক্যাম্পাসের একটি বৈধ সাংস্কৃতিক সংগঠন 'জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটি' (JCS)-এর কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গোলাম রাব্বানী যেভাবে জনসমক্ষে একজন নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় নিপীড়নের হুমকি ও আক্রমণ করেছেন, তা চরম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। 

উল্লেখ্য, এই ব্যক্তি ইতিপূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে বিভিন্ন বিতর্কিত কন্টেন্ট তৈরি করেছেন, যার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

নেতৃবৃন্দ প্রক্টোরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগপত্র নিয়ে গেলে প্রক্টর কর্তৃক ‘ফেসবুক ইস্যুতে আমাদের কিছু করার নেই’ বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা ও মিথ্যাচার।’

‘ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে শিক্ষার্থীদের শাস্তির নজির থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততা মূলত অপরাধীকেই পরোক্ষভাবে সুরক্ষা দেওয়ার শামিল। প্রক্টোরিয়াল বডির এই দ্বিচারিতা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতের পথে বড় অন্তরায়।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করে বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও ধর্ষণের হুমকি প্রদানের দায়ে গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন গড়িমসি করা হয়েছে এবং কেন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডিকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ক্যাম্পাসে সাইবার বুলিং ও হয়রানি বন্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের মুক্তচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীর সম্মানহানি ও সাইবার সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন যদি অবিলম্বে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’