নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ঈদুল ফিতরের ভিজিএফের ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতি লাখ টাকায় ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের টি.আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট সংস্কার কাজের বরাদ্দ দেওয়ার সময় সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করলেও এখনো বিল পাইনি। কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক স্যার অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’
আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী বলেন, ‘প্রশাসক স্যার যাদের প্রকল্প দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন। আমাকেও ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দিয়েছেন। এর জন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এটা নাকি তার প্রাপ্য।’
ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘টি.আর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। আমিও তাকে টাকা দিয়েছি। এছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ড তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। সেগুলো কী করবেন আমাদের কিছুই বলেননি।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘মেম্বারদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ বলতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আজ আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি, সবাই মিলে কিছু কথা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, ‘ইউপি সদস্যরা অভিযোগের বিষয়ে এখনো আমাকে কিছু জানাননি। বিষয়টি জানলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’