প্রাণবন্ত শুরু ওয়াকআউটে শেষ

সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে গতকাল প্রাণবন্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদ নেতা অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। তার সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য।

অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা তারেক রহমান সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই।’ অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদের সব গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, “জাতীয় সংসদ হবে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ওপর স্থান দিতে আমরা শপথবদ্ধ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এটাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।”

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিনেই সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়। শোক প্রস্তাবে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দোয়া পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ১৫ মার্চ বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। অধিবেশন চলাকালে দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

বিরোধী দলের ওয়াকআউট : বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে আসবেন। তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের এমপিরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। রাষ্ট্রপতি বসেন স্পিকারের পাশের আসনে।

রাষ্ট্রপতিকে ‘জুলাই গণহত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। তারা সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানিয়েই প্রতিবাদ শুরু করেন। পোস্টার উঁচিয়ে সেøাগান দেন। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গাদ্দার’, ‘গো ব্যাক কিলার চুপ্পু’, ‘কিলার চুপ্পুর বিচার চাই’ প্রভৃতি সেøাগান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও পোস্টার হাতে প্রতিবাদে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী তখন অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীতের সময় বিরোধী জোটের এমপিরা প্রতিবাদে বিরতি দেন। মিনিটখানেক নীরবে দাঁড়িয়ে তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণমঞ্চে উঠলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে নেমে দাঁড়ান। বাধার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে শুরু করেন। সেøাগান আর হট্টগোলের কারণে তার কথা শোনা যাচ্ছিল না।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলে না।’ বিরোধী জোটের অন্য এমপিরাও তার সঙ্গে যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি প্রতিবাদকারীদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার লিখিত ভাষণ পড়া শুরু করেন। তখন হাসনাত আবদুল্লাহ ও আবদুল হান্নান মাসউদ সেøাগান দেন, ‘কিলার চুপ্পু গো ব্যাক’। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও সেøাগান দেন। তখন সব এমপি সমস্বরে সেøাগান ধরেন, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’। সেøাগান দিতে দিতে এমপিরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। শোক প্রস্তাবের ওপর ভাষণে নাহিদ ইসলামসহ বিরোধী এমপিরা স্পিকারকে বলেছিলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর কেউ যেন সংসদে না আসেন।

অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে আজ থেকে আবারও কাক্সিক্ষত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সংসদকে যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষার রাজনীতি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। সব দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।’

বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে অকার্যকর করে ফেলেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চান।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদের সব গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সংসদকে কোনো ব্যক্তির চরিত্রহননের কেন্দ্র না বানানোর অনুরোধ জানান।

বর্তমান সংসদকে চব্বিশের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশেষ সংসদ বলে অভিহিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং জুলাই বিপ্লবে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই এ সংসদ।’

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘হাজারো শহীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১-এ বিদায় নেয় আওয়ামী লীগ।’

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংসদে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘নতুন সংসদের উচিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা।’ তিনি আশা করেন, ত্রয়োদশ সংসদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

সংসদ হবে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র : স্পিকার

স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সূচনা বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ হবে সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ওপর স্থান দিতে আমরা শপথবদ্ধ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ হোক আমাদের মূলমন্ত্র।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিল। তারপরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্র।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। পরে স্বৈরাশাসকদের আগমন ঘটেছিল। বাংলাদেশের লড়াকু জনগণ আমরণ সংগ্রাম করে গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রজনতা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে। এ সংগ্রামে যারা আত্মহুতি দিয়েছে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম প্রত্যেক শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে নির্বাচন হয়েছে। আমার ১০টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে সুষ্ঠু বলে মনে করি। জনগণ অধির আগ্রহে ত্রয়োদশ সংসদের কার্যক্রম দেখার অপেক্ষায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ে জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করি। বিরোধী দল যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সেজন্য সচেষ্ট থাকব। নিরপেক্ষতার খাতিরে আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

শোক প্রস্তাব উত্থাপন : স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরণ্যে নাগরিক ও ব্যক্তির স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর আগে প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শোক প্রস্তাবে বিএনপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারসহ ৩১ জন সাংসদ, জুলাই যোদ্ধা আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহরিয়ার খান আনাস, মেহেদি হাসান জুয়েল, ফারহান ফাইয়াজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরণ্যে নাগরিকদের নাম রয়েছে, যা স্পিকার পড়ে শোনান।

পরে প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম শোক প্রস্তাবে সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, এম কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ, ফেলানি খাতুন প্রমুখের নাম যুক্ত করার কথা বললে তা শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হয়।

শোক প্রস্তাবে প্রয়াত খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপরে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ। পরে জুলাই শহীদের ওপর পৃথক আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি ও এনসিপির নাহিদ ইসলাম।

পাঁচ সদস্যের সভাপতিম-লী : স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১২(১) বিধি অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের সভাপতিম-লীর নাম ঘোষণা করেন। তরা হলেন বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, মনিরুল হক চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তারা অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

১৩৩ অধ্যাদেশ উত্থাপন : সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে ও সংস্কারের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনেই এগুলো উপস্থাপন করা হয়।