ব্যালট ক্রটির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত

ব্যালটে ত্রুটির অভিযোগ উঠায় ভোট গণনার মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে মাইকযোগে নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক। 

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২৬ গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির মোট ভোটার ৬৮৯ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২২৫টি ভোট গণনা করা হয়।

গণনাকৃত ভোটের মধ্যে সভাপতি পদে মফিজুর রহমান ১১৭ ভোট ও আব্দুর রহমান ১০২ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদে এ কে এম আব্দুল হাই ১১১ ভোট এবং আনিসুর রহমান পান ৭৮ ভোট।

এদিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সহজেই বোঝা যাবে কোন ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন, যা গোপন ভোটের নীতির পরিপন্থী। তাই তিনি নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানান।

একই দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনিসুর রহমানও মৌখিকভাবে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।

তবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মফিজুর রহমান বলেন, ভোট গণনার সময় হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, যা বিধি-বিধানের বাইরে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, ‘সারাদিন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে এবং প্রায় ২০০ ভোট গণনা করা হয়েছে। একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। ব্যালটে ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়টি সঠিক নয়। তবে ভোট গণনার পরিবেশ ছিল না।’

উল্লেখ্য, এ নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।