জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রত্যাশার চেয়ে শঙ্কার পাল্লা যেন ভারী। সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণত অধিবেশনের মেয়াদ ও মুলতবির সময় নির্ধারিত হয়, তবে রাজনৈতিক উত্তাপ বা কোনো বিশেষ সংকটের কারণে এই সময়সূচি পরিবর্তনের নজির রয়েছে। সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত, যেখানে সংসদ কেবল সংখ্যাতত্ত্বের জোরে আইন পাসের যন্ত্র না হয়ে, জনস্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হবে। সাধারণ জনগণের ভরসা ও আস্থার জায়গা বর্তমানে নড়বড়ে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি যখন ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করে, তখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তারা সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপের আশায়। এর মধ্যে প্রথম অধিবেশনেই জামায়াতে ইসলামীর ওয়াকআউট এবং জাতীয় সংগীত চলাকালীন বিতর্কিত অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ চায় সংসদ যেন কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মঞ্চ না হয়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট লাঘবে প্রকৃত ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদের কার্যক্রম কতটা বিঘ্নহীন হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকার প্রধান কারণ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার চরম সংকট। জনগণ প্রত্যাশা করে, সংসদ হবে একটি প্রাণবন্ত বিতর্কের জায়গা, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে যৌক্তিক জাতীয় সমস্যা বেশি গুরুত্ব পাবে। গণতান্ত্রিক আচরণের অভাব কেবল সংসদের ভেতরে নয়, বরং রাজপথের রাজনীতিতেও স্পষ্ট, যা সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের ভীতি ও অনাস্থা তৈরি করে।
বৈশি^ক ভূ-রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক হুমকি। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জ¦ালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এবং এলএনজি কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের প্রভাবে যদি হরমুজ প্রণালি বা লোহিত সাগরের নৌপথ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানির দাম প্রতি ব্যারেলে ২০ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন খরচ এবং সেচ পাম্পের খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানবে। সংসদের এই অধিবেশনে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে যে, সরকার কেবল ভর্তুকি দেওয়ার আশ্বাস না দিয়ে বরং বিকল্প জ¦ালানি উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে। সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের নীরব আক্ষেপ রয়েছে। যখন দেখা যায় যে, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যরা বেশি সোচ্চার, তখন সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গাটি সংকুচিত হয়ে আসে। বাজার সিন্ডিকেট, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক খাতের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ যা বর্তমানে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ চায়, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রভাবশালী লুটেরার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। একটি শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কখনোই পূর্ণতা পায় না, কারণ প্রশ্ন করার কেউ না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। জনগণের প্রত্যাশা হলো, সংসদ হবে এমন একটি আয়না, যেখানে রাষ্ট্রের সব ত্রুটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে এবং তা সংশোধনের উপায় খুঁজে বের করা হবে। সংসদের ভেতরে জনপ্রতিনিধিদের পেশাদারত্ব এবং শিষ্টাচার বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সময় প্রয়োজনীয় আলোচনা না করেই তা দ্রুত পাস করে দেওয়া হয়, যা আইনের গুণগতমান কমিয়ে দেয়।
সাধারণ মানুষ চায় প্রতিটি আইন যেন চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাস হয় এবং সেখানে যেন সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশি^ক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট এবং দেশের স্বার্থরক্ষায় সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ, যারা বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদের নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সংসদের অধিবেশনে বিশেষ প্রস্তাবনা থাকা উচিত। রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখা এবং হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে সংসদীয় কমিটির সক্রিয় ভূমিকা জনগণ দেখতে চায়। সংসদীয় গণতন্ত্রকে সংহত করতে হলে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের পথ প্রশস্ত রাখা প্রয়োজন। কেবল সংখ্যাধিক্যের জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে সংসদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে রাজনৈতিক বিবাদ ভুলে, জাতীয় সংহতি প্রদর্শন করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে সংসদের প্রতিটি মুহূর্ত জনগণের নজরদারিতে থাকে, তাই যেকোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বা বিতর্ক সরাসরি জনমতে প্রভাব ফেলে। গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, সংসদীয় বিতর্কের মান উন্নত হলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়। একটি অর্থবহ সংসদের জন্য দরকার, জনগণের গতি-প্রকৃতি বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক আইন প্রণয়ন। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় সংসদে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাজারে যে সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে, তা মোকাবিলায় সংসদীয় কমিটিগুলোর সুপারিশ এবং সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত থেকে আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে, তাই এই খাতের অস্থিরতা পুরো অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণ মানুষ এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে শুরু করে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থরক্ষা করাই হওয়া উচিত সংসদের মূল দর্শন। জনগণ যখন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে, তখন তাদের মনে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন থাকে। সংসদের কার্যক্রম যদি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেই স্বপ্নভঙ্গ হতে সময় লাগে না। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া। এ বিষয়ে সংসদে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নির্দেশমালা না আসে, তবে সাধারণ জনগণের আস্থার জায়গা হোঁচট খাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম গত এক বছরে অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে জরুরি আলোচনা হওয়া উচিত সংসদে। একই সঙ্গে পলিসিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয়। নেতাদের মনে রাখা উচিত যে, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসন পদ্ধতি নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হলো সংসদ। সংসদ সদস্যদের আচরণ হতে হবে মার্জিত এবং তথ্যনির্ভর।
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প ছাড়িয়ে দেশ যখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে, তখন সংসদের প্রতিটি কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকা বাঞ্ছনীয়। ই-পার্লামেন্ট বা ডিজিটাল সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনপ্রণেতারা যেন আরও দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন এবং বিশ্ববাজারের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে যে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হচ্ছে, তা স্মার্টলি হ্যান্ডেল করার জন্য সংসদীয় নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি সুরক্ষায় সংসদের এই অধিবেশনে জোরালো আইন প্রণয়ন করা উচিত। চলমান সংসদে বেশ কয়েকজন তরুণ নেতৃত্ব রয়েছেন। এই প্রজন্ম মোট জনসংখ্যার বিশাল অংশ। তারা সংসদে কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং একটি ভবিষ্যৎমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান নীতি প্রত্যাশা করে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকগুলো অনেক সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়, অথচ এখানে নীতিনির্ধারণের মূল কাজগুলো সম্পাদিত হয়। জনগণের প্রত্যাশা হলো, এই কমিটিগুলোর কার্যবিবরণী যেন আরও স্বচ্ছভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে টানাপড়েন চলছে, তা নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়া উচিত এবং সেখানে অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ বা টেকনোক্রেটদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিদেশে অবস্থানরত কোটি বাংলাদেশি প্রবাসীরা জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করলেও সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব বা তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যদি বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়ে দেশে ফিরে আসেন, তবে তাদের পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়ে সংসদে অগ্রিম পরিকল্পনা থাকা বাঞ্ছনীয়। রেমিট্যান্সের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকলেও, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং বিদেশের মাটিতে তাদের অধিকার রক্ষায় সংসদীয় কূটনীতি আরও কার্যকর হওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব থেকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে নিরাপদ রাখতে সংসদের এই অধিবেশনে একটি বিশেষ ট্রাস্ট বা সুরক্ষা তহবিল গঠন করার প্রস্তাব, সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার বার্তা নিয়ে আসতে পারে।
সাধারণ মানুষ সংসদকে একটি অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। জামায়াত বা অন্য যেকোনো দলের এমন কোনো আচরণ, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা সংসদীয় শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা স্পিকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সংসদ কোটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের সংকীর্ণ স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের বৃহৎ স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, তবে গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ সবক্ষেত্রে সংসদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। জামায়াতের ওয়াকআউটের মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলো যেন সংসদীয় কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে স্থবির করে না দেয়, সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সংসদকে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত করাই হোক এই অধিবেশনের প্রধান লক্ষ্য। তখনই জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং রাষ্ট্র স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হবে। সংসদের এই যাত্রা বিঘ্নহীন হোক। দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সংসদের প্রতিটি অধিবেশন হোক অর্থপূর্ণ। সাধারণ মানুষের চাওয়া বেশি কিছু না। তারা নিতান্তই দিন আনে দিন খায়। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে সংসদকে অগ্রসর হতে হবে। একসময় দেখা যাবে, সেই মানুষগুলোই রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশে রয়েছে। সংসদ হোক প্রাণবন্ত, মানুষ স্বস্তি পাক।
লেখক: সিইও, ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড
antora00111@gmail.com