গাইবান্ধায় পানির নিচে আলু ক্ষতির মুখে কৃষক

থেমে থেমে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অনেক জমির আলু পানির নিচে চলে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা। আলু উত্তোলনের একেবারে শেষ সময়ে এমন বৃষ্টিতে পানির নিচে ডুবে গেছে আলুক্ষেত ও মাঠে তুলে রাখা আলু। এতে বিপাকে পড়েছেন আলুচাষিরা।  

গতকাল শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন ও রাজাহার ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও জমির ওপর বৃষ্টির পানি জমে আছে, আবার কোথাও ওপরের জমি থেকে নিচের জমিতে পানি নেমে এসে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় আলু তুলে মাঠে শুকানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টির কারণে সেসব আলু পানিতে ডুবে গেছে। এতে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। একদিকে আলুর দাম কম, উৎপাদন খরচ উঠছে না। আর অন্যদিকে বৃষ্টি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। আগামী বছরে আলু লাগাতে বীজ লাগবে। হিমাগারে রেখে সেই আলুর বীজ সংরক্ষণ করা কঠিন হবে। তারা আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সকাল থেকেই জমিতে জমা পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। কেউ শ্যালোমেশিন বসিয়ে সেচের মাধ্যমে পানি সরাচ্ছেন। আবার কেউ মাটি কেটে নতুন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেতের পানি দ্রুত নামছে না। ফলে জমিতে পড়ে থাকা আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যেসব পথ দিয়ে বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেত, সেসব পথ অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ওপরের জমি থেকে নেমে আসা পানি নিচের জমিতে আটকে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার থানেশ্বর গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সেই আলু কয়েক দিন আগে তুলে শুকানোর জন্য জমিতেই রেখে দিয়েছিলেন। গতকাল সেসব আলু বস্তায় ভরে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ভোরে হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু ডুবে গেছে। এখন পানি সরালেও এসব আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে চাষ করা ফসল যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কৃষকের আর কিছুই করার থাকে না। কৃষকের কেউ নেই।’

একই গ্রামের লিটন মিয়া জানান, তিনি কিস্তির টাকা তুলে আলু চাষ করেছিলেন। বাজারে দাম কম থাকায় কিছুদিন অপেক্ষা করে আলু হিমাগারে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু তলিয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন সেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলায় এবার ৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৯ ভাগ আলু তোলা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলার কিছু মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, এসব আলু হিমাগারে রাখা যাবে না। পানি দ্রুত নিষ্কাশন হলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে পানি দীর্ঘসময় জমে থাকলে আলুসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আজ শুক্রবার (গতকাল) হলেও আমরা সরেজমিনে যাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পানি সরানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে।