মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপের একটি শ্রমিক আবাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত ৫ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতরা হলেন তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও নূরনবী সরকার। চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহরি রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের আগুনে কোয়ার্টারের সাত বাংলাদেশি দগ্ধ হন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই কোয়ার্টারে থাকা মোট ৩৮ বাংলাদেশির মধ্যে বাকিরা ঘটনার সময় অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের একটি আবাসন ব্লকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ শ্রমিকই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের খবর পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল দিঘুরা দ্বীপে পাঠানো হয়েছে। এই দলে অভিজ্ঞ পুলিশ তদন্তকারীদের পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন। দিঘুরা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম উসমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, আবাসন ব্লকের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার লিক হওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর বর্তমানে ওই এলাকা জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহের কাজ করছেন।