ব্যাংক ঋণ নিয়ে ৭৫ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছিলেন কৃষক মানিক। রোপন থেকে শুরু করে ৯০ দিন অপেক্ষার পর সেই আলু উত্তোলন করেন। দাম কম হওয়ায় হিমাগারে পাঠাতে সড়কের পাশে বস্তায় স্তুপ করে রাখেন। কৃষকের সেই আলু রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কবিচন্দ্রদি গ্রামের কৃষক মানিক মিয়ার স্বপ্ন এভাবেই দুঃস্বপ্নে রুপ নেয়। সরেজমিনে জানা যায়, শুক্রবার (১৩মার্চ) দিবাগত রাতে কৃষক মানিক মিয়ার উৎপাদিত ১০৫ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৬৫কেজি) আলু কবিচন্দ্রদি ঈদগাঁ মাঠ সংলগ্ন সড়কে স্তুপ করে রাখেন। পরিবহন সংকটের কারণে তা হিমাগারে পোঁছানো যায়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতের আঁধারে কে বা কারা উক্ত আলুর স্তুপে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। এতে অধিকাংশ আলু পুড়ে যায়।
কৃষক মানিক মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ৭৫ শতাংশ জমি ফত্তন নিয়ে ডায়মন্ড জাতের আলু লাগাই। দাউদকান্দি কৃষি ব্যাংক থেকে আমার এবং স্ত্রীর নামে লোন নিয়ে চাষ করি। দাম কম হওয়ায় হিমাগারে রাখার জন্য ঈদগাঁ মাঠের পাশে সড়কে স্তুপ দিয়ে রাখছিলাম। কিন্তুু রাতের আধারে দুর্বৃত্তরা সেই আলুতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি বিলাপ করে বলেন, কারো সাথে আমার শত্রুতা নেই, কেনো বা কারা আমার আলুগুলো পুড়িয়ে দিলো। কৃষক মানিক মিয়া মূলধন হারিয়ে পুড়ে যাওয়া আলুর স্তুপে গড়াগড়ি করে বলছেন ব্যাংকের লোনের টাকা শোধ দিমু কেমনে? অসহায় একজন কৃষকের সাথে এমন অমানবিক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দৌলতপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, একজন অসহায় কৃষকের সাথে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই ।