সামিয়ানা টানানো ছোট্ট একটি অস্থায়ী দোকান। সামনে বড় ব্যানারে লেখা ‘১ টাকায় ঈদের নতুন জামা’। ব্যানারটি দেখেই কৌতূহলী হয়ে জড়ো হয় আশপাশের পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। হাতে একটি করে ১ টাকার কয়েন। একটু পরেই তারা নতুন জামা নিয়ে বের হচ্ছে দোকান থেকে। তাদের মুখে হাসি আর চোখে ঈদের আনন্দ।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে পেয়েছে ঈদের নতুন পোশাক।
ঈদ মানেই নতুন জামা, আনন্দ আর উৎসবের দিন। তবে সমাজের অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুর কাছে নতুন জামা পাওয়া এখনো স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ আয়োজন করেছে ‘১ টাকার দোকান’। দোকানে নতুন ডিজাইনের ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট সাজিয়ে রাখা হয়। স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে সহায়তা করেন। এরপর শিশুদের কাছ থেকে প্রতীকী মূল্য হিসেবে ১ টাকা নিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন জামা।
শুধু শিশুদের জন্যই নয়, অসহায় মানুষের জন্যও রাখা হয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রিপিস। দরিদ্র মানুষরাও ১ টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছে।
শহরের গোলাহাট এলাকার ১০ বছর বয়সী রেহান বলে, ‘এখানে ১ টাকায় নতুন জামা দিচ্ছে শুনে খুব ভালো লাগছে। নিজের জন্য একটি পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট নিলাম।’ ৮ বছরের আকাশি বলে, ‘আমি নিজের পছন্দের একটা ফ্রক নিয়েছি। খুব সুন্দর লাগছে। ঈদের দিন এটা পরব।’
মাত্র ১ টাকায় নতুন পোশাক পেয়ে মহাখুশি অসহায় শিশু সাবিনা (১২) ও কৌশিক (৮)। তাদের দুজনেরই বাবা নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালান। এখনো তাদের জন্য নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি তিনি। সাবিনা বলে, ‘আমার মা বলছিলেন হয়তো এবার নতুন জামা হবে না। কিন্তু এখানে এসে ১ টাকায় নতুন জামা পেলাম। খুব ভালো লাগছে।’
সংগঠনটির সদস্য মিথুন, সামিউল, রাজা, রাব্বি ও রকি বলেন, সমাজে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যারা প্রায় সব উৎসবেই বঞ্চিত থাকে। ঈদের সময় নতুন জামা তাদের কাছে বড় স্বপ্নের মতো। সেই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, আমাদের এই আয়োজন মূলত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। যারা ঈদের নতুন জামা পায়নি, তারা এখানে এসে মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের পোশাক নিতে পারছে। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে এ আয়োজন করেছে। তিনি জানান, ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হবে।