বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারের বদলা: মোকোয়েনার তোপে নিউজিল্যান্ডের লজ্জা

মাত্র ১১ দিন আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই হারের ক্ষত দগদগে থাকতেই কিউইদের তাদেরই মাটিতে রীতিমতো লজ্জায় ডুবালো প্রোটিয়ারা। ১৯ বছর বয়সী তরুণ পেসার এনকোবানি মোকোয়েনার দুর্দান্ত অভিষেক আর পেস ইউনিটের বিধ্বংসী বোলিংয়ে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে সফরকারীরা।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বাউন্সি উইকেটে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের তোপে পড়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। জেরাল্ড কোয়েটজি শুরুতেই সাজঘরে ফেরান ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামকে। এরপর ওটনিল বার্টম্যান তাঁর সুইং ও গতির জাদুতে তছনছ করে দেন কিউই টপ অর্ডার। শেষ পর্যন্ত ১৪.৫ ওভারে মাত্র ৯১ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, যা টি-টোয়েন্টিতে তাদের ১০ম সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই নতুন রূপের দলের নায়ক অভিষিক্ত এনকোবানি মোকোয়েনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। অভিজ্ঞ জিমি নিশামকে (২৬) আউট করে নিজের উইকেটের খাতা খোলেন এই তরুণ। এরপর গতির বৈচিত্র্য ব্যবহার করে জাক ফোকস ও কোল ম্যাককঞ্চিকে সাজঘরে ফিরিয়ে কিউইদের ফেরার সব পথ বন্ধ করে দেন তিনি। মোকোয়েনার ৩/২৬ স্পেলটিই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

৯২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে মিচেল স্যান্টনার ৪ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে কিউইদের হয়ে লড়াই চালিয়েছিলেন। তবে অন্য এক অভিষিক্ত ব্যাটার কনর এস্টারহুইজেন ৪৮ বলে ৪৫* রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫তম ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

৫ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও দিনের শুরুতে নারী ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮০ রানে হারিয়েছিল, তবে পুরুষ দলের এই জয়ে দিনশেষে হাসি ফুটেছে প্রোটিয়া শিবিরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ৯১/১০ (নিশাম ২৬, মোকোয়েনা ৩/২৬, কোয়েটজি ২/১৪)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৯৩/৩ (এস্টারহুইজেন ৪৫*, স্যান্টনার ১/৮)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।