জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। জুলাই সনদবিষয়ক আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিষয়টি সংসদে সমাধান না হলে তারা রাজপথেও নামবেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না বলেই তা করেননি। বিরোধীদলীয় নেতাকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেলে সংসদ অধিবেশন ২৯ মার্চ বেলা ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশপাশি ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান তিনি।
সংসদে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এ সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠিত হয়নি। এটি প্রসিডেনশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে হয়েছে, যা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা হয়েছিল। এ অর্ডারের ১৫টি নির্দেশিকার ৩ থেকে ১৫ নম্বর বিষয়গুলো ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অর্ডারের ১০ নম্বর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করা হবে। আমার বিবেচ্য বিষয়টি এখানেই। আজ ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এর মধ্যে এ অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।’
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদের এ সভা আহ্বান করেছেন। অর্ডারে পরিষ্কার বলা আছে, যে পদ্ধতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হবে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও ডাকতে হবে।’
গণভোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আদেশের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। আদেশে বলা ছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এটি হয়নি এবং এর সময়সীমা আজ শেষ হয়েছে।’
সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; আমরা এ সুযোগ পেতে চাই। আদেশের তফসিল অনুযায়ী, আমরা ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছি এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর দিয়েছি।’
সংবিধান সংস্কারের সময়সীমা সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। পরিষদের কর্মধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দুটি এখতিয়ারে (পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য) কাজ করবেন।’ অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান ডা. শফিক।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুরুতে তিনি স্পিকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কোন বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো মুলতবি প্রস্তাব আনতে হয়, সেটার জন্য বিধি আছে। সেই বিধিতে কোনো নোটিস তিনি দিয়েছেন কি না। যদি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে হয়, সেই বিষয়ে বিধি ৬৮ অনুসারে কোনো নোটিস দিয়েছেন কি না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে বা সংবিধান পরিবর্তন হবে, এরকম কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ), এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন। মাঝামাঝি জিনিস, সেদিন আমি বলেছিলাম, এটা হয়তো নিউটার জেন্ডার হতে পারে।’
এ আদেশটিকে ‘আরোপিত’ আদেশ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ বাদে সবগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এ সংসদের আহ্বানও তিনি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সেটা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না বিধায় তা করেননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন যদি বিরোধী দলের প্রশ্ন অনুসারে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশটা সাংবিধানিক হয়, সেটা নিয়ে এখানে আলোচনা হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ এইটা এবং গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না মর্মে আদালত রুল জারি করেছেন। এখানে হয়তো বিচার বিভাগ মতামত দেবে। কিন্তু তাদের মতামত এই সার্বভৌম সংসদের ওপর কখনো বাইন্ডিং (বাধ্যতামূলক) না। কিন্তু সার্বভৌম সংসদ আবার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না, যেটা জুডিশিয়ারিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হয়ে যাবে বা ভায়োলেশন অব কনস্টিটিউশন হয়ে যাবে। সুতরাং উভয় দিকে লক্ষ রেখে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আইনানুগভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এখন যদি বলা হয় যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, মানলাম। আমরা নির্বাচিত হয়েছি সাংবিধানিক ভোটে। নির্বাচন কমিশনের দুটোই এখতিয়ার। একটা হচ্ছে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, আরেকটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এটা হচ্ছে কনস্টিটিউশনাল ম্যান্ডেট, যেটা নির্বাচন কমিশন পালন করতে বাধ্য।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের জন্য আরেকটা আইন হয়েছে। বিএনপিও এটা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাঝখানে আদেশটা জারি করে গণভোট দেওয়া হলো চারটা প্রশ্ন। যে প্রশ্নের মধ্যে একটা বিশাল প্রশ্ন জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতা হয়নি। এটা একটা জবরদস্তিমূলক আরোপিত আদেশ করে সেই আদেশের একটা প্রশ্ন গণভোটের মধ্যে দেওয়া হয়। চারটা প্রশ্ন হলেও মানুষ কোন কোন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’, কোন কোন প্রশ্নে ‘না’ বলবে সে বিকল্প ছিল না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারপরও গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। তিনি বলেন, এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ, ১৩৩টা অধ্যাদেশ এখানে উত্থাপিত হয়েছে প্রথম দিনে। তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতাকে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তারা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে তারা সম্মান করেন। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে, কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটা বিশাল আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন। তিনি সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সলিউশন দেওয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিস দেবেন। নোটিস পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেব।’
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংবিধানে এখন অনেক কিছু আছে, যা এই সরকার করছে না। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর আইন আছে। আরও অনেক আইন এবং বাস্তবতা আছে... সেগুলো কি এই সরকার করছে বা অন্তর্বর্তী সরকার করেছে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি অন্তবর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন, এই নির্বাচন ও সরকার সবকিছুকে সংবিধানের দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে, যদিও ১০৬-এর আন্ডারেই সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি যদি মাথায় না রাখি তাহলে আসলে কোনো কিছুই সমাধান করা সম্ভব নয়।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, গণঅভ্যুত্থান সংস্কার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং এ নির্বাচনের বৈধতা। সংবিধান অনুযায়ী তো এ সময়ে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী অনেক কিছুই হয়নি, পরবর্তী এই সংসদে এসে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এগোনোর কথা ছিল। সেই সমঝোতা যদি সরকারি দল নষ্ট করার চেষ্টা করে, জনগণ তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। আমরাও দাঁড়াব।’
সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে নামবে বিরোধী দল : সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সমাধান জাতীয় সংসদের ভেতরে হোক, এমনটা চায় বিরোধী দল। তবে সংসদের ভেতরে এর সমাধান না হলে রাজপথে নামবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি। অধিবেশনের প্রথম দিন সময় কম ছিল, বিরোধী দলও একটা ইস্যুতে ওয়াকআউট করেছিল। বিরোধী দল সেখানে কথা তুলেছিল, কিন্তু তাদের কথা আমলে নেওয়া হয়নি। অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দল সে ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটাই সংসদে পড়ে শোনানো হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, শেষ পঞ্জিকা দিবস উপলক্ষে বিরোধী দল রবিবারের মধ্যে এর সমাধান চেয়েছিল। বিরোধী দল যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে, এই শপথের কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, পাশাপাশি যারা শপথ নেননি, তারা কবে শপথ নেবেন, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকা হবে, গণভোটকে আদৌ মান্য করা হবে কি না, এসব প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব বিষয় তুলে ধরা হলে স্পিকার বলেছেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নোটিস দিলে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিরোধী দল একটি নোটিস দিয়ে সংসদের ভেতরেই এই সমস্যার সমাধান চাইবে। কিন্তু সংসদের ভেতরে যদি জনগণের প্রত্যাশা বা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন না ঘটে, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাজপথে নামতে হবে। তবে বিরোধী দল সেটা চায় না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যেহেতু আমরা বিষয়টা উত্থাপন করেছি, স্পিকার যেহেতু এটা বিবেচনায় নিয়েছেন, নোটিস দিতে বলেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় এটা এখন চলতে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানে কি ২০২৬ সালে কোনো ভোট ছিল? এটা তো ছিল না। এই প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার, একই অর্ডার, এই একই অর্ডারের মাধ্যমে যেটা হয়েছে, আপনি এক অংশকে সংবিধানের বাইরে গেলেও মানবেন, আরেক অংশকে বাইরে গেলে মানবেন না। না মানলে দুটোই না মানেন। আর মানলে তো দুটোই মানতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘একটা কথা আছে যে পাবলিকস ওপিনিয়ন বা উইল হলো সুপ্রিম কনস্টিটিউশন। তো সেখানে গণভোটে আপনি রায় নিয়েছেন। গণভোটে তো উনারাও সম্মত, আমরাও সম্মত। আমাদের দাবি ছিল গণভোটটা আগে হোক। আর উনাদের দাবি ছিল একই দিনে হোক। উনাদের দাবিই বাস্তবায়ন হয়েছে।’