শত্রুর চোখে ধুলো দিতে ওস্তাদ অক্টোপাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের সীমা নেই। মানুষসহ অনেক প্রাণীর হৃৎপিণ্ড একটি থাকলেও, অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড তিনটি। হৃৎপিণ্ড দুটি প্রাণীটির ফুলকায় রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে, তৃতীয়টি শরীরের বাকি অঙ্গগুলোতে রক্ত সঞ্চালনের কাজে। তিনটি হৃৎপিণ্ড তিনগুণ রক্তচাপ তৈরি করে। ফলে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বজায় রাখে। অক্টোপাস যখন সাঁতার কাটে, তখন যে হৃৎপিণ্ড পুরো শরীরে রক্ত সরবরাহ করছিল, তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তের রঙ লাল হলেও, অক্টোপাসের রক্ত নীল। শিকারের হাত থেকে বাঁচার জন্য অক্টোপাস শিকারের দিকে একপ্রকার কালি ছুড়ে দেয়। ছুড়ে দেওয়া এই কালি শুধু তাকে শিকারের হাত থেকে লুকাতেই সাহায্য করে না, এটা শত্রুকে শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন করে। এই কালিতে ‘টাইরোসিনেজ’ নামক এক পদার্থ থাকে। এর ফলে শত্রু কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। এটি শত্রুর ঘ্রাণশক্তি এবং স্বাদ অনুভবের ক্ষমতা অল্প সময়ের জন্য নষ্ট করে। শুধু ব্লু-রিংড অক্টোপাসের বিষ মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে মারার জন্য একটি ছোট্ট কামড়ই যথেষ্ট। সেকেন্ডের দশ ভাগের তিন ভাগ সময়ে তারা শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে সক্ষম। একটি অক্টোপাসের নিউরন সংখ্যা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন। তারা ছুরির সাহায্য ছাড়াই শামুক, ঝিনুকের খোলস খুলে ফেলতে পারে। অক্টোপাস সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকায়। এছাড়াও পূর্ব এশিয়া, স্পেন, গ্রিস এবং আমেরিকাতেও খাদ্য হিসেবে অক্টোপাস জনপ্রিয়। অক্টোপাসের আয়ু খুব কম। প্রজাতিভেদে তারা ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। জিনের বৈচিত্র্যের কারণেই হাজার বছর ধরে টিকে আছে সাগরের রহস্যপূর্ণ এই প্রাণী।