গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজলায় ভিজিএফের চাল না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চালবঞ্চিতরা। চালের সিøপ পেয়েও চাল না পেয়ে তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের মহদীপুর ইউনিয়নের পুটিয়াপাকুর বাজার এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে চালের স্লিপ দেওয়া হয়। সেই স্লিপ নিয়ে গত রবিবার তারা ইউপি কার্যালয়ের চাল আনতে যান। সেখানে সকাল থেকে অপেক্ষা করেন তারা। পরে বিকেলে জানানো হয় চাল আর বিতরণ হবে না। আগামীকাল (আজ) সোমবার বাকিদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। সোমবার সকালে সিøপ নিয়ে চাল আনতে যান সুবিধাভোগীরা। পরে ইউপি থেকে জানানো হয় চাল নেই, বিতরণ বন্ধ। প্রায় হাজার মানুষের কাছে স্লিপ কিন্তু চাল নেই। পরে সবাই সড়ক অবরোধ করেন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা-পুলিশের একটি দল এবং পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির ও কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মহদীপুর ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, মহদীপুর ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভিজিএফের ৫২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্দেশ আছে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে দরিদ্র মানুষদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে দেওয়ার জন্য। সেই অনুসারে ৫ হাজার ২০০ জনের মধ্যে স্লিপ বিতরণ করা হয়।
এসব বিষয়ে মহদীপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার বলেন, ‘৫ হাজার ২০০ জনকে স্লিপ দেওয়া হয়। তাদের সবাইকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও স্লিপ নিয়ে লোকজন আসতে থাকে। পরে তাৎক্ষণিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চাল কিনে ৭৭৪ স্লিপধারীকে চাল দেওয়া হয়। এরপরও বিপুলসংখ্যক লোক স্লিপ নিয়ে চাল নিতে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্লিপগুলো নকল। একটি মহল হুবহু স্লিপ তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের সরকার বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।