ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না কারা?

ইরানের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের এই প্রধান পথটি পুনরায় সচল ও নিরাপদ করতে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে অনেক দেশই সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে এই দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যদি এই সংকটে এগিয়ে না আসে, তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ 'খুব খারাপ' হতে পারে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, অনেক দেশকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর রক্ষা করলেও এই বিপদে তারা পর্যাপ্ত উৎসাহ দেখাচ্ছে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ইউরোপের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এটি ন্যাটোর নিয়মিত কার্যক্রমের আওতাভুক্ত নয় এবং ওই অঞ্চলে সরাসরি ন্যাটোর কোনো উপস্থিতি নেই। এদিকে জার্মানি এই সংকট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। দেশটির সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুলও এই অঞ্চলে ন্যাটো সদস্যদের কোনো সামরিক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশ মিত্রদের সাথে মিলে একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরাসরি অনুরোধ না পেলেও তারা এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না।

এশিয়ায় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও চীন অন্যতম। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আপাতত তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে, চীন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব পক্ষের উচিত অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা যেন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় না ঘটায় সেদিকে নজর দেওয়া।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি বড় ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি না দেওয়ায় এই সমুদ্রপথের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।