৬ মাসের মধ্যে কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি

ছয় মাসের মধ্যে কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ হাতে নেওয়া হয়েছে। যাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্বে দেবে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। গতকাল বিডার চেয়ারম্যান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

আশিক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে একদিন আগেই বিডার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা অবহিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী এফডিআই (বিদেশি বিনিয়োগ) নিম্নমুখী। তাই প্রচেষ্টা থাকবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। যা কি না কর্মসংস্থান তৈরিতে সাহায্য করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি দেশের ব্যবসায়ীদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। এগুলোকে মাথায় রেখেই ২৫টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করা, সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বেসরকারিকরণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রকাশ, বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা অনুসন্ধান, দুর্নীতি রোধে ও লিড টাইম কমাতে সমুদ্র ও বিমান বন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুকরণ, প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাইভেট সেক্টর ‘এডভাইসরী কাউন্সিল’ গঠন, ব্যবসা সংক্রান্ত সরকারি সার্ভিসের একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাবিজ-এর সম্প্রসারণ করা।

জানা গেছে, বিডার যৌথ পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠা। গত রবিবার বিডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চারটি প্রধান বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সংস্থা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এই রোডম্যাপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এ নিয়ে দু দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করবে। এ চুক্তি হলে ইলেকট্রনিকস, মবিলিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেক্সটাইল, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে ১৫০টিরও বেশি কোরিয়ান কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ। এর আগে বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এদিকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে তিনটি বিষয়ে কাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় বিডা। সহায়তার ক্ষেত্রগুলোকে উন্নত অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কাঠামোতে ভাগ করা হয়েছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা অবহিত করেছি। সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিতামূলক কালচার আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের আগামী ছয় মাসের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছি। ছয় মাস শেষে এই পরিকল্পনার একটি মূল্যায়ন অর্থাৎ সাফল্য ও ব্যর্থতা আমরা তুলে ধরব।