চট্টগ্রাম থেকে মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দুই কিশোরকে পাচারের অভিযোগে সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগর পুলিশের দাবি, ওই দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে এনে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার(১৮মার্চ) ওই দুই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালতে নির্দেশে পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপহরণের পর দুই কিশোরকে কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে সমুদ্রপথে প্রথমে থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের নেওয়া হয় মালয়েশিয়ায়। সেখানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং নির্যাতন চালানো হয়। কৌশলে সমুদ্রপথেই পুলিশ মালয়েশিয়া থেকে দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর)আমিরুল ইসলাম বলেন, নগরের চান্দগাঁওয়ের মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর গত ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়। প্রতিবেশী ওই দুই কিশোর একটি গ্যারেজে কাজ করত। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলে ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ প্রথমে আবদুল কাদের ও ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব থানা এলাকা থেকে মো. মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মো. মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোস্তফা পাচারকারী চক্রের মূল সদস্য। তিনি আদালতে জবানবন্দিতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
নগরের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, দুই কিশোর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অপহরণের পর তাদের কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ থেকে সাত দিন আটকে রাখা হয়। এরপর সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড এবং পরে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। তবে পরিবারের সেই সামর্থ্য ছিল না।