পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি উপলক্ষে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার। ইতোমধ্যে জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টানা ৭ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে ভিড় করবেন। আগামী ১৯ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসজুড়ে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকলেও ঈদের ছুটিকে ঘিরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে জেলার ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক বুকিং চলছে এবং দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে বুকিংয়ের চাপ।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি, প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন।’
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় ও ঈদ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
হোটেল কক্স-টুডের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার দুলাল জানান, ১৯ মার্চ থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হবে এবং ২৩ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মূল ভিড় থাকবে।
অন্যদিকে, রামাদা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন একটি ডিজে প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। এছাড়া গালা বুফে ডিনারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাক ও গোয়েন্দা টিম ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘ঈদে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’