ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি

বগুড়ার সান্তাহারে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায়, উত্তরাঞ্চলের একাংশের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন। যাত্রীদের বাড়ছে ভোগান্তি। গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার জংশন থেকে ছেড়ে ডাকবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ৬৬ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও পার্বতীপুরের সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনার ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী অভিমুখী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ও রকেট মেইল আক্কেলপুর স্টেশনে আটকে রয়েছে। চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস রাণীনগর স্টেশনে থেমে আছে। পঞ্চগড় অভিমুখী একতা এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি অভিমুখী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস আব্দুলপুর জংশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।  ঈদযাত্রার এই সময়ে সান্তাহারের দুর্ঘটনায় স্বজনদের কাছে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। পাশাপাশি ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে এই অঞ্চলের ঈদযাত্রায়। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আদমদীঘি স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,  লোকোমাস্টার সংকেত অমান্য করার কারণে সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত আহত ৪৮ জনকে উদ্ধার করেছেন। আর রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, আহতের সংখ্যা ৬৬। অন্যদিকে, ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে পার্বতীপুর ও ঈশ্বরদী থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসেছে। উদ্ধারকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ট্রেনটি  ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে  সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। সান্তাহার (২৮৩ কিমি) স্টেশন পার হয়ে তিলকপুর স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ব্যানার সিগন্যাল অনুসরণ না করায় ২৮৬ কিমি-এ তথা বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ৯টি কোচ লাইনচ্যুত (ডিরেইলড) হয়। এতে আহত হন ৬৬ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জনকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রাক্কালে প্রকৌশল বিভাগের লোকজন ব্যানার ফ্ল্যাগ ধরে ও কশান মেসেজ দিয়ে রেল চেঞ্জের কাজ করছিলেন। স্টেশন থেকেও কশান অর্ডার দেওয়া হয়। তা লোকো ড্রাইভার অনুসরণ না করায় ডিরেইলমেন্টের কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।

এদিকে ঢাকা থেকে আজ সন্ধ্যায় ও রাতে ছাড়বে এ রকম সবগুলো ট্রেন বের হয়ে এসেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সেকশন ক্লিয়ার না হলে আসতে পারবে না। চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে এগুলোর কোনোটিই বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

যদি উদ্ধারকাজ শেষ নাও হয়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম প্রেরণ করা যেতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথিমধ্যে আটকা পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে ঢাকা থেকে  ছাড়ার নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।