ঈদে বেড়েছে গরুর মাংসের দাম

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার উদযাপিত হবে। এর আগে সারা দেশে বইছে ঈদের আমেজ। গ্রাম-গঞ্জ ও শহরে সবখানে চলছে, ঈদের প্রস্তুতি। নতুন জামাকাপড় কেনাকাটার পাশাপাশি ঈদের দিনের আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সবাই। তবে- বাজারে ঈদ উপলক্ষে চাল, ডাল, আটা-ময়দা, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে মাংসের দাম। রাজধানীর পাড়া, মহল্লা ও নিত্যপণ্যের বাজারে গুরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। অপরদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকার বেশি দামে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাজার থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, বাজারে দেশি পেঁয়াজ, দেশি ও আমদানি করা রসুন, আমদানি আদা, দারুচিনি, লেবু, কাঁচামরিচ, বেগুন, শসার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন এবং পাম তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি লবঙ্গ, ব্রয়লার মুরগির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

রাজধানীর মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে প্রতিকেজি গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে নির্ধারিত মূল্য তালিকায় এ দাম স্পষ্ট করে লিখে রাখছেন।

কারণ জানতে চাইলে শাহজাহানপুর কলোনি বাজারের মাংস বিক্রেতা আবু হানিফ বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে গরুর সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে মাংসের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে হাটে গরুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দামে গরু কিনে কম দামে মাংস বিক্রি সম্ভব নয়। ফলে কিছুটা বেশি দামে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে শবেকদর (২৭ রমজান) ও ঈদ উপলক্ষে অনেকে মিলে গরু কিনে মাংস ভাগ করে নেন। এতে চাহিদামতো মাংস পেয়ে থাকেন তারা। এতে বাজারে চাপ কম মনে হলেও বাজারে গরুর সরবরাহ কমে যায়। যার ফলে নিয়মিত মাংসের ব্যবসায়ীদের কিছুটা বেশি দামে গরু কিনতে হয়। এবং তারা বেশি দামে মাংস বিক্রি করেন। আবার অনেক অসাধু ব্যবসায়ী রোজার আগে গরু কিনে রেখে, রোজার মাসের চাহিদা কাজে লাগিয়ে বেশি দামে মাংস বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গতকাল ঢাকার বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস ২১০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রোজার শুরুতে বাজার তদারকিতে কড়াকড়ি থাকলেও ঈদকেন্দ্রিক তা কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো কারণ দেখিয়ে মুরগির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

শাক-সবজির মধ্যে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, বাঁধাকপির পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে, কাঁচা মরিচের কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।  টমেটোর কেজি মানভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লেবুর হালি আকার ও মানভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, তবে কোনো কোনো এলাকায় লেবুর হালি ৬০ থেকে ১০০ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিকেজি শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসার কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুনের কেজি আকার ও মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা, করলার কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজরের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, বরবটির কেজি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গার কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লাউয়ের পিস আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শাকের আঁটির মধ্যে লাউ ও কুমড়া শাকের আঁটি আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লালশাক, পালং, কলমি শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে দেশি রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি আদার কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, দারুচিনির কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।