তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘উদ্যোগ’ নামে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে বছরে মোট ৫ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজির ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী ও সাঈদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায়িক খাতকে এ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, প্রযুক্তিসহ যেকোনো বৈধ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে। বাছাইয়ের পর ব্যাংক উদ্যোক্তার প্রকৃত পুঁজির চাহিদা নির্ধারণ করবে। কেউ ১২ লাখ টাকা পুঁজির প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। অর্থাৎ সবাই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না; প্রকৃত প্রয়োজন ও ব্যাংকের ঋণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়ন নির্ধারিত হবে। ব্যাংক ঋণের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির নীতিমালা অনুসারে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্যোক্তা নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। বাছাই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্টার্টআপ ও বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জামানতের বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের অধিকাংশেরই পর্যাপ্ত জামানত থাকার সুযোগ নেই। তাই প্রাথমিকভাবে কর্মসূচিটি জামানতবিহীন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ঋণের অর্থ অপব্যবহার বা খেলাপি হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে তফসিলি ব্যাংকের পাশাপাশি স্থানীয় চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠন, বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদেরও মেন্টর হিসেবে যুক্ত করা হবে। ব্যবসা নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেও সহায়তা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ এখন কর্মক্ষম বয়সে রয়েছে। এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর পর জনমিতিক সুবিধা কমে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে। তাই এর আগেই অর্থনীতিকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে তরুণদের উৎপাদনশীল কর্মকা-ে যুক্ত করতে হবে।
তাদের মতে, তরুণদের মধ্যে ‘চাকরি করব’ মানসিকতার পাশাপাশি ‘চাকরি দেব’ মানসিকতা তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কোনো উদ্যোক্তা ব্যবসায় সফল হয়ে উঠলে পরবর্তী সময়ে তিনি এ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।