শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবারও দেশের সবচেয়ে বড় জামাত এখানে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঈদের জামাত ঘিরে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন, র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান শোলাকিয়া মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান দেশের প্রাচীনতম এবং সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান। এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। এর ধারাবাহিকতায় এই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। বরাবরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।

 শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে উভয় ট্রেন কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে দুপুর ১২টায় ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আগত মুসল্লিদের আবাসন ও অজুর জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অস্থায়ী অজুখানাও স্থাপন করা হয়েছে। থাকবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এ ছাড়া সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবায় মাঠে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিরা মাঠে কেবল জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ব্যাগ, ছাতা বা অন্য কিছু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ১ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য, র‌্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি ও ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকায় ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬টি ওয়াচ টাওয়ার রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিবি, র‌্যাব এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে নজরদারি করা হবে। বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বা তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশ করানো হবে।

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান বলেন, চেকপোস্ট ও মোবাইল টহলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কেও টহল টিম নিয়োজিত আছে। স্নাইপার, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।