ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কুমিল্লার শপিংমলগুলো। সকাল গড়াতেই ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে বিপণিবিতান। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে অনেক জায়গায় রাত ১টা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর জনপ্রিয় শপিংমলগুলো রূপায়ণ দেলোয়ার টাওয়ার, ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা, সাত্তার খান টাওয়ার, খন্দকার হক টাওয়ার, এস আর প্ল্যানেট, সাইবা ট্রেড সেন্টার ও আনন্দ সিটিসবখানেই উপচেপড়া ভিড়। দোকানগুলো সাজানো হয়েছে থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, জামদানি ও শিশুদের রঙিন পোশাকে।
প্রতি বছরের মতো এবারও নগরীর কান্দিরপাড়ে রূপায়ণ দেলোয়ার টাওয়ার কেনাকাটায় বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে র্যাফেল ড্র। প্রতিটি পণ্য কেনার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে কুপন। সেখানে রয়েছে মোটরবাইকসহ শতাধিক পুরস্কার জেতার সুযোগ। একই ধরনের আয়োজন করেছে এস আর প্ল্যানেট এবং ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা। এসব উদ্যোগ ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রূপায়ণ দেলোয়ার টাওয়ারে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা দিলরুবা বলেন, ‘ঈদের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তাই সবাইকে নিয়ে শপিং করতে এসেছি। আমরা প্রতি বছর এখান থেকেই কেনাকাটা করি। বাচ্চারা লটারির কুপন নিতে খুবই পছন্দ করে।’
দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, এবারের বাজারে পাকিস্তানি ও ফার্সি ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পোশাকের দাম তিন হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
রূপায়ণ দেলোয়ার টাওয়ারের দোকান মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে পোশাক সংগ্রহ করেছি। বিশেষ করে পাকিস্তানি ড্রেস বেশি রেখেছি। কারণ এটাই এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি আরও ভালো হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে শপিংমলগুলোতে।’ ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়া হয়েছে। সবাই যেন উৎসবের আমেজে নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
এদিকে, নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, শপিংমলগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
মাগুরায়ও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। উৎসবমুখর পরিবেশ সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে চলছে জমজমাট কেনাকাটা।
শহরের বেবী প্লাজা, নুর জাহান প্লাজা, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কাজী টাওয়ার, আল আমীন মার্কেট, বকসি মার্কেট, জুতা পট্টি, হাজিপুর মার্কেট, কলেজ রোড, সৈয়দ আতার আলী সড়কসহ বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস ও শাড়ির দোকানগুলোয় সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি জুতার দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। বাজারে বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড়, থ্রিপিস ও নতুন ফ্যাশনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন সংগ্রহ এনেছেন, যা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি কাপড়, দেশি প্রিন্টের শাড়ি এবং আমদানি করা বিভিন্ন আধুনিক ডিজাইনের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ক্রেতাদের বাড়তি চাপের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় প্রায় সারা দিনই যানজট লেগে থাকছে। মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় এতটাই বেশি যে, অনেক সময় চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে দর্জিদেরও এখন দম ফেলার সুযোগ নেই। দিনরাত চলছে নতুন পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। ঈদ কেন্দ্র করে শহরের মার্কেটগুলো রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে, যা সন্ধ্যার পর আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করছে। ফুটপাতজুড়েও বসেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। স্বল্প আয়ের মানুষ ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে ঈদ উপলক্ষে প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা করছেন। এসব দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় কম নয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে।
দোকানিরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচাকেনা বেশ ভালো। ক্রেতারা বিশেষ করে পাকিস্তানি কাপড়, দেশি প্রিন্ট শাড়ি এবং বিভিন্ন আমদানি করা কাপড়ের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, শুধু কাপড়ই নয়, প্রায় সব পণ্যের দামই এ বছর কিছুটা বেড়েছে।