চট্টগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে কম-বেশি পাহাড় রয়েছে। তবে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ও চরম্বা ইউনিয়নের বেশ কিছু পাহাড় রাতে সমতল ভূমিতে পরিণত করছেন মাটিখেকোরা। রাতের অন্ধকারে কৃষকের জমির টপ সয়েল খননযন্ত্রের সাহায্যে গোপনে কেটে নিয়ে পরিণত করছে বিশাল পুকুরে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন সংগঠন অথবা অসহায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও সুবিচার পাচ্ছে না। তা ছাড়া অভিযোগ দিলেও ভুক্তভোগীদের প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে। কমে যাচ্ছে এলাকার কৃষি উৎপাদন, নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পাহাড় রয়েছে চুনতি ইউনিয়ন ও চরম্বা ইউনিয়নে। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে রয়েছে ৪৫টি ইটভাটা। প্রতিনিয়ত এসব ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে গিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে স্থানীয় পাহাড়, টিলা ও কৃষিজমির টপসয়েল। সম্প্রতি চুনতি ইউনিয়নের বাগানপাড়া এলাকার বিশাল পাহাড় রাতের অন্ধকারে কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে।
স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী মো. রায়হান, মিনহাজুল আবরার, জাওয়াদ বিন আরিফ ও সাইফুল চুনতি বাগানপাড়ার এ পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। এছাড়া চরম্বা ইউনিয়নের বিবির বিলা, দক্ষিণ হাজীপাড়া, ফকিরপাড়া, জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় সরকারি পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। এছাড়া বড়হাতিয়া, পুটিবিলা ও কলাউজান ইউনিয়নে রাতের অন্ধকারে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানা যায়। চরম্বা জান মোহাম্মদ পাড়ার শিক্ষক ছরোয়ার কামাল বলেন, পেশাগত কারণে আমি বাড়িতে না থাকা অবস্থায় আমার পৈতৃক কৃষিজমি ও টিলা কেটে রাতের অন্ধকারে মাটি নিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করার পর থেকে অনবরত হুমকি পাচ্ছি। কোনো সমাধান পাইনি।
এ ব্যাপারে চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল মোহতাদির জানান, চুনতি ইউনিয়নে বাগানপাড়া এলাকায় একটি পাহাড়কে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। এ পাহাড় কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় সাইদুর রহমান নামে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মুনিরা পারভীন রুবা বলেন, লোহাগাড়া উপজেলায় এভাবে রাতে পাহাড় ও কৃষি জমির টপসয়েল কেটে বিক্রি করা হলে এটা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আরও সক্রিয় হলে হয়তো এভাবে পাহাড়-টিলা ধ্বংস হতো না। এ পাহাড় রক্ষায় প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, একটি কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নিলে ওই জমি সম্পূর্ণ অনুর্বর হয়ে যায়। কমপক্ষে ১০-১৩ বছর সময় লাগে সেটির উৎপাদনশীলতা ফিরে পেতে। তাছাড়া কৃষিজমিকে পুকুরে পরিণত করা মোটেও উচিত নয়। লোহাগাড়া ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, লোহাগাড়ায় দিনে বা রাতে যখনই পাহাড় কাটা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন যখনই পাহাড় বা কৃষিজমির মাটি কাটার সংবাদ পাচ্ছি তখনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। চুনতির পাহাড় কাটাকে কেন্দ্র করে যে হামলা হয়েছে সেটা নিন্দনীয়।