পেপের ‘হাসি’ ভিনির ‘কান্না’

টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিদায়ের পরিণতি মেনে নেওয়া পেপ গার্দিওলার জন্য ভীষণ কষ্টের। মঙ্গলবার রাতে ম্যানসিটি কোচকে সেই কষ্টটাই পেতে হলো। সেটাও রেকর্ড গড়া এক ম্যাচে। কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৯১তম ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে পেছনে ফেলেছিলেন গার্দিওলা। এখন তার সামনে কেবল আছেন কার্লো আনচেলত্তি। রেকর্ডের রাতে দলের হার এবং শেষ আটের আগেই বিদায়ে স্বভাবতই প্রশ্ন ছিল ম্যানসিটির কোচ হিসেবে কী শেষবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেন? প্রশ্নের জবাবে একগাল হেসে কেবল ম্যানসিটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে পেপের দলের ব্যর্থতার রাতে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। জোড়া গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার আনন্দে কাঁদলেন। ম্যাচ শেষে সেই কান্নাকে ম্যানসিটি সমর্থকদের উচিত জবাব বলে আখ্যা করলেন ব্রাজিল তারকা।

সিটি নিজেদের মাঠে শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটা হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে হেরে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সিটিজেনদের। শেষ তিন আসরেই রিয়ালের কাছে হেরে ছিটকে যেতে হয়েছে তাদের। ঘরোয়া লিগ শেষ পর্যন্ত জেতা নিয়ে সংশয় আছে। চ্যাম্পিয়নস লিগেও হলো না। তাই আগামী গ্রীষ্মে গার্দিওলার সিটির ডাগআউটে থাকা নিয়ে সন্দেহ আছে। অনেকের ধারণা, স্প্যানিশ এই কোচের চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির হয়ে এটাই শেষ ম্যাচ। তবে ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ এ নিয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি, বরং আগামী মৌসুমে সিটির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নে রহস্যের হাসি হেসে গার্দিওলা বলেন, ‘ওহ, সবাই তো দেখছি আমাকে বরখাস্ত করতে চায়, তাই না? একদিন আমি নিজেই এখানে এসে বলব, বিদায়, বন্ধুরা! আমি এখনো এখানে আছি, আমার চুক্তির আরও এক বছর বাকি। তাই বলতে পারি দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে এবং আগামী মৌসুমে আমরা ফিরে আসব।’

ঘরের মাঠে হারের ব্যাখ্যায় ম্যাচের শুরুর দিকেই অধিনায়ক বেনার্দো সিলভার লালকার্ড দেখাকে দায়ী করেছেন গার্দিওলা, ‘এটা কোনো ভুল নয়, এটা তার ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড, এটা একটা প্রতিক্রিয়া। তবে এটা এড়ানো যেত। আমার অনুভূতি হচ্ছে, যেভাবে আমরা শুরু করেছি এবং খেলেছি, ১১ জন খেলতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু ফুটবলে এমন হয়। মাদ্রিদ একটি অসাধারণ দল, তুমি ভুল করলে তারা তোমাকে শাস্তি দেবেই।’

এদিকে সিটিকে হারানোর ম্যাচে নিজের ‘কান্নার’ উদযাপনটি গত মৌসুমে সিটি সমর্থকদের তাকে হেয় করে প্রদর্শন করা ব্যানারের জবাব ছিল বলে আখ্যা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম ও যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করে সিটির বিদায় নিশ্চিত করেন ভিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দল মুখোমুখি হলে, ম্যানচেস্টারের সমর্থকরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে যেখানে মিডফিল্ডার রদ্রিকে ব্যালন ডি’অর হাতে দেখা যায় যা তিনি ভিনিসিয়ুসকে পেছনে ফেলে জিতেছিলেন। গত সপ্তাহে প্রথম লেগে পেনাল্টি মিস করার পর, মঙ্গলবারের স্পট কিকে ভিনিসিয়ুস গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে ভুল দিকে পাঠান। এরপর তিনি পোজ দিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগে হেলান দেন এবং দুই হাত দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ‘কান্না’ ভঙ্গি করেন। ম্যাচ শেষে মুভিস্টারকে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘ফুটবল এমনই সবসময় আরেকটা সুযোগ থাকে। আমরা এখানে জিতেছি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি।’ টিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের দর্শকদের দিকে ভিনিসিয়ুস ‘৪-০’ ইঙ্গিত করছেন, যা তখনকার মোট ব্যবধানকে নির্দেশ করছিল। ভিনিসিয়ুস আরও বলেন, ‘এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল। মৌসুমের শুরু থেকে আমরা কিছু ভালো ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু সবসময় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, যেভাবে এই ম্যাচে পেরেছি।’