এশিয়ায় সমীহ আদায়ের লক্ষ্য শমিতের

গত বছর মার্চে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়েছেন। এরপর তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ, কিউবা মিচেলরা। প্রবাসীদের আগমনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের শক্তি বেড়েছে ঠিক, তবে এখনো কাক্সিক্ষত ফল আসেনি। ভালো সুযোগ থাকার পরও বাংলাদেশ পারেনি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যেতে, মহাদেশীয় ফুটবলে সমীহের জায়গা পেতে। কানাডা প্রবাসী শমিত সোম মনে করেন সামনে দুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ বাংলাদেশকে দিয়েছে এশিয়ায় সমীহ আদায় করার সুবর্ণ সুযোগ।

২০২৫ সালের ১০ জুন বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় শমিত সোমের। কানাডা জাতীয় দলের হয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলা শমিত এরপর থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ দলে। যদিও অনুশীলন ক্যাম্পে কখনই শুরু থেকে থাকা হয়নি তার। এবার একটু ব্যতিক্রম। কানাডার দল কেভারলি এফসি’র সঙ্গে সম্পর্ক চুকে গেছে তার। ফ্রি এজেন্ট হওয়ায় জাতীয় দলের ক্যাম্পে শুরু থেকে থাকার সুযোগ হাতছাড়া করেননি এই মিডফিল্ডার। অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন সংবাদ মাধ্যমে কথাও বলেছেন সোম। বলেছেন ভারতকে হারানোর স্মৃতি ভুলে এখন তাদের সামনে তাকাতে হবে। ভিয়েতনামকে প্রীতি ম্যাচে এবং সিঙ্গাপুরকে এশিয়ান বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে হারাতে পারলে এশিয়ায় একটা সমীহের জায়গায় পৌঁছানো যাবে। এশিয়ায় নিজেদের প্রমাণ দেওয়াটাই এখন তার মতে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। শমিত বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যে ভিয়েতনামের সঙ্গে খেলব, প্রথমত তার জন্য বাফুফে ধন্যবাদ পাবে। ভিয়েতনাম খুব ভালো অবস্থায় আছে। আমাদের জন্য একটা খুব ভালো পরীক্ষা হবে। মূল ব্যাপার হলো আমরা এশিয়ার ফুটবলে একটা সম্মান পাব। আমরা যদি ওদের সঙ্গে জিততে পারি, সিঙ্গাপুরকেও যদি হারাতে পারি, তাহলে আমাদের নামটা আরেকটু বড় হবে এশিয়ার ফুটবলে। ইতিমধ্যে লোকজন একটু জানে বাংলাদেশ কী, আমরা কতটা উন্নতি করছি। এখন আমরা যদি রেজাল্টগুলো ভালো পাই তাহলে আরেকটু বেশি সম্মান পাব।’

২৬ মার্চ ভিয়েতনামের সঙ্গে ম্যাচের পর ৩১ মার্চ এশিয়ান বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। দুটি দলই এর মধ্যেই এশিয়ান কাপের মূল পর্ব প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। এমন দুটি দলের সঙ্গে খেলার পর এ বছর বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য সাফে ভালো কিছু পাওয়া। শমিত অবশ্য ম্যাচ বাই ম্যাচ উন্নতির কথা বলেছেন। ধাপে ধাপে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে এক সময় ভালো ফল আসবে বিশ্বাস এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের, ‘সব কিছুই নির্ভর করছে আমরা কতটা উন্নতি করতে পারছি তার ওপর। জানি সাফ আসছে, বাট প্রস্তুতি কতটা ভালোভাবে হবে সেটা নির্ভর করছে ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা কী করতে পারছি। আমাদের ফার্স্ট ফোকাস হলো ভিয়েতনাম, তারপর নেক্সট ফোকাস সিঙ্গাপুর, তারপরে জুন উইন্ডো তারপরে সাফ। আমরা এখন খেলছি শুধুই সম্মান অর্জনের লক্ষ্যে। (এশিয়ান বাছাইয়ে) আমরা যদি দ্বিতীয় স্থান পেতে পারি, যদি সিঙ্গাপুরকে, ভিয়েতনামকেও হারাতে পারি...। এরা এশিয়ান কাপে যাচ্ছে। এদের হারাতে পারলে একটা গুড স্টেটমেন্ট হবে।’ আগেভাগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার লাভটা বুঝতে পারছেন শমিত। এতে করে সামনের দুই ম্যাচে আরও সপ্রতিভ রূপে দেখা যাবে, আশা সবার। শমিতও চান নিজের সেরাটা দিতে। লক্ষ্যটা তো বলেছেনই এশিয়ায় সমীহ আদায় করা।