রিয়ালে থামল সিটি প্যারিসে চেলসি

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগের চারটি ম্যাচ ছিল মঙ্গলবার রাতে। চার ম্যাচের ফল নিজেদের করে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, আর্সেনাল ও স্পোর্টিং সিপি। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে জিতে সিটির মাঠে খেলতে এসেছিল রিয়াল। ইংলিশ জায়ান্টদের দ্বিতীয় লেগেও ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে রিয়াল। জোরালো গোল করে ম্যানসিটির দর্শকদের উচিত জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পিএসজি প্রথম লেগেই কোণঠাসা করে ফেলেছিল চেলসিকে। সে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ৫-২ ব্যবধানে। অসম্ভব এক লক্ষ্য নিয়ে প্যারিসে আসা চেলসিকে আরেকটি হারের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে। ম্যাচটা তারা স্বাগতিকদের কাছে হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। দুই ইংলিশ জায়ান্টের বিদায়ের রাতে অবশ্য আর্সেনাল ঠিকই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম লেগ ছিল ১-১ সমতা। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠে বায়ার লেভাকুজেনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে গানাররা। শেষ ষোল’র অপর ম্যাচে অবশ্য স্পোর্টিং সিটি থামিয়ে দিয়েছে বোডো গ্লিম্টের রূপকথার যাত্রা। প্রথম লেগেল তারা ৩-০ গোলে জিতে চমকে দিয়েছিল পর্তুগিজ জায়ান্টদের। তবে নরওয়ের দলটি ফিরতি দেখায় ৫-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে শেষ ষোল থেকে।

ভিনিসিয়ুস ঝলকে শেষ আটে রিয়াল

(দুই লেগ মিলিয়ে রিয়াল ৫-১ ম্যানসিটি)

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে লস ব্লাঙ্কোস টানা তৃতীয়বারের মতো সিটিজেনদের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করেছে। প্রথম লেগেই এ রকম কিছুই ইঙ্গিত মিলেছিল। নিজেদের মাঠে রিয়াল জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। অর্থাৎ সর্বকালের সেরাদের বিদায় করতে মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে পেপ গার্দিওলার দলকে জিততে হতো কমপক্ষে চার গোলের ব্যবধানে। সেটা তো হয়ইনি উল্টো ম্যাচের বড় একটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলে হার মানতে হয়েছে সিটিজেনদের। স্বাগতিকরা শুরু থেকেই প্রথম লেগের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে, তবে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস বার্নার্দো সিলভার হ্যান্ডবলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় প্রথম গোল করেন। সেই হ্যান্ডবলে সিটি অধিনায়ককে লালকার্ড দেখতে হলে ম্যানসিটির ফেরার আশা আরও মøান হয়ে যায়। ১০ জনের সিটি বিরতির ঠিক আগে আর্লিং হালান্ডের গোলে সমতায় ফিরেছিল ঠিক। তবে গার্দিওলার দল অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন গড়তে পারেনি। যোগ করা সময়ে অরেলিয়েন চুয়ামেনির পাস থেকে ভিনিসিয়ুস দ্বিতীয় গোল করে সিটির বিদায় এবং নিজেদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করেন।

চেলসির ফের হারের হতাশা

(দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজি ৮-২ চেলসি)

সিটির মতো চেলসিও পারেনি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে। নিজেদের মাঠে তাদের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে কেবল হারালেও চলত না, প্রথম লেগের ধাক্কা সামলাতে জিততে হতো অনেক বড় ব্যবধানে। তবে নিজ আঙিনায় প্রতিপক্ষের গোলের দরজাই খুঁজে পাননি চেলসির ফরোয়ার্ডরা। উল্টো খভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া, ব্র্যাডলি বারকোলা ও সেনি মায়ুলু গোল করে পিএসজিকে লন্ডনে এনে দেন উদযাপনের উপলক্ষ। কোয়ারাতসখেলিয়া প্রথম লেগে ৫-২ জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন। দ্বিতীয় লেগে মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেন। বারকোলাও আগের ম্যাচে গোলের ধারা অব্যাহত রেখে পিএসজিকে আরও এগিয়ে নেন। আর বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা মায়ুলু ৬২ মিনিটে দারুণ ফিনিশে তৃতীয় গোল করেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টারে হয় লিভারপুল নয় গালাতাসারের মুখোমুখি হবে।

গানারদের এগিয়ে যাওয়া

(দুই লেগ মিলিয়ে আর্সেনাল ৩-১ লেভারকুজেন)

চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারই প্রথম খেলছেন এবেরেচি এজ। তবে মর্যাদার আসরে গোলের দেখাটা পাচ্ছিলেন। পেলেন এমন এক ম্যাচে, যে ম্যাচে জয়ের বিকল্পই ছিল না। নিজেদের মাঠে শেষ ষোলর লড়াইয়ে আর্সেনালকে ২-০ গোলে জেতাতে বড় ভূমিকা ছিল এজের। বায়ার লেভাকুজেনের বিপক্ষে প্রথম লেগটা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। তাই মাস্ট উইন ম্যাচ খেলতে নেমেছিল দু’দল। তবে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের পাস পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ে জোরালো শটে গোল করেন এজে। দ্বিতীয়ার্ধে ডেক্লান রাইস আর্সেনালের কোয়ার্টার নিশ্চিত করেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে লেভারকুজেনকে বিদায় করে গানাররা।

প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ আটে স্পোর্টিং

(দুই লেগ মিলিয়ে স্পোর্টিং ৫-৩ বোডো/গ্লিম্ট)

দুর্দান্ত স্পোর্টিং চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম দল হিসেবে প্রথম লেগে তিন বা তার বেশি গোলের পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ধাপে গিয়েছে। নরওয়ের বোডো/গ্লিম্ট পর্তুগাল এসেছিল ৩-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে। তবে স্বাগতিক স্পোর্টিং নিজেদের মাঠে গড়েছে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের কীর্তি। অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল করে বোডো/গ্লিম্টের স্বপ্নের যাত্রা থমকে দিয়েছে তারা। গত সপ্তাহে নরওয়েতে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর, স্বাগতিকরা এগিয়ে যায় গনসালো ইনাসিওর গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে পেদ্রো গনসালভেস দ্বিতীয় গোল করেন। আর নির্ধারিত সময় শেষের ১২ মিনিট আগে লুইস সুয়ারেজ পেনাল্টি থেকে গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো দ্রুত গোল করলে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে স্বাগতিক গ্যালারি। সেই উৎসবে নতুন রঙ দেন রাফায়েল নেল শেষ দিকে পঞ্চম গোল করে। ১৯৮২-৮৩ ইউরোপিয়ান কাপের পর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে স্পোর্টিং।