চেলসির দুর্দশা বাড়িয়ে এভারটনের উৎসব

মাঠ বদলেছে, বদলেছে মালিকানা; সেইসঙ্গে এভারটনের লড়াকু মানসিকতা যেন আরও শাণিত হয়েছে। নিজেদের নতুন ভেন্যু ‘হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে’ টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে দ্য টফিসরা। বেটোর জোড়া গোল আর ইলিমান এনদিয়ায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে চেলসিকে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ডেভিড ময়েসের শিষ্যরা। এই হারে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনি লিগ টেবিলে তাদের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে এভারটন।

শনিবার রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল এভারটন। প্রথমার্ধেই লিড নিতে পারত তারা, যদি না জেমস গার্নারের শট চেলসির মালো গুস্তো গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিতেন। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। সদ্য ইংল্যান্ড দলে ডাক পাওয়া গার্নারের রক্ষণভেদী পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন বেটো।

বিরতির ঠিক আগে চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের একটি অ্যাক্রোবেটিক ভলি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। এটি ছিল এভারটনের জার্সিতে পিকফোর্ডের ১০০তম ‘ক্লিনশিট’ বা গোল না খাওয়ার ম্যাচ। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে যখন উৎসব চলছে, তখন অ্যানাউন্সার বিশেষভাবে ঘোষণা করেন পিকফোর্ডের এই মাইলফলকের কথা।

দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি কোচ লিয়াম রোজনিয়র খেলায় ফিরতে আলেজান্দ্রো গারনাচো, এসতেভাও উইলিয়ান ও লিয়াম ড্যাপকে মাঠে নামান। কিন্তু কৌশলের লড়াইয়ে ময়েসের কাছে পরাস্ত হন তিনি। ইদ্রিসা গেয়ির ৩০ গজ দৌড়ে দেওয়া পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেটো। আর শেষদিকে ইলিমান এনদিয়ায়ের বাঁকানো শট যখন চেলসির জালে আশ্রয় নেয়, তখন ব্লুজদের পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

চেলসির জন্য সময়টা এখন চরম অস্থিরতার। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৮-২ অ্যাগ্রিগেটে বিধ্বস্ত হওয়ার পর লিগেও টানা হার। কোচ রোজনিয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুর ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন এবং সাবেক কোচ এনজো মারেস্কার বিদায় নিয়ে তার মন্তব্য ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে সামনে এনেছে।

এদিন গ্যালারিতেও দেখা গেছে সমর্থকদের ক্ষোভ। মালিকানা বিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই অর্ধেক দর্শক স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

এই জয়ের পর এভারটন এখন প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা চেলসির সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান এখন মাত্র দুই। যেখানে এভারটন আট বছর পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, সেখানে চেলসি এখন সেরা পাঁচে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করা নিয়েই শঙ্কিত।