হরমুজে ইরানের নতুন সাবমেরিন কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের ছোট আকারের 'মিজেট' সাবমেরিন বহর। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষুদ্র সাবমেরিনগুলো সহজেই প্রণালির সরু পথে মাইন পেতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো ইরানের স্পিডবোট ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করতে তাদের এ-১০ যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অভিযান চালিয়েছে। দক্ষিণ ইরানের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারেও ভারী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রশমিত করা।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় হুমকি আকাশপথে দৃশ্যমান নয়। পারস্য উপসাগরের অগভীর ও ঘোলা পানির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ইরানের ছোট আকারের সাবমেরিনগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

ইরানের কাছে প্রায় ১০টি  মিজেট সাবমেরিন রয়েছে। প্রায় ১২০ টন ওজন এবং ২৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সাবমেরিনগুলো প্রচলিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সহজেই নজর এড়িয়ে চলতে পারে। মাত্র ৩০ মিটার গভীর পানিতেও এগুলো কার্যক্রম চালাতে সক্ষম, যা হরমুজ প্রণালির গড় গভীরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রণালির অগভীর পানি, জাহাজ চলাচল ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উচ্চ শব্দ—সব মিলিয়ে এই এলাকায় সাবমেরিন শনাক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই গাদির শ্রেণির সাবমেরিন থেকে 'হুট' টর্পেডো ছোড়া সম্ভব, যা পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া রাতের আঁধারে একটি সাবমেরিনই গোপনে একাধিক মাইন স্থাপন করতে পারে, যা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। 

দীর্ঘ চার দশক ধরে পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করে ইরান তাদের সাবমেরিন ক্রুদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করেছে। এই কৌশল ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশটি হরমুজ প্রণালিকে কার্যত একটি 'চোকপয়েন্ট' বা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে গাদির শ্রেণির এই মিজেট সাবমেরিনই ইরানের একমাত্র শক্তি নয়; দেশটির হাতে আরও বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।