‘অধিনায়কত্বে এটাই আমার কঠিনতম সময়’-স্টোকসের খোলা চিঠি

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারার ক্ষত এখনো দগদগে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটে যখন পরিবর্তনের দাবি তুঙ্গে, তখন অধিনায়ক হিসেবে বেন স্টোকসের ওপরই ভরসা রাখল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। গতকাল সোমবার বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে, স্টোকস টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন এবং কোচ হিসেবে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন।

অধিনায়কত্ব টিকে থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন স্টোকস। সেখানে তিনি স্বীকার করেছেন, গত তিন মাস তার অধিনায়কত্ব জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন সময়’ ছিল। স্টোকস লেখেন, ‘ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মানের। গত তিন মাস আমাকে অনেকভাবে পরীক্ষা করেছে, যা সম্ভবত অন্য সব অধিনায়ককেও কোনো না কোনো সময় পার করতে হয়েছে।’

চিঠিতে স্টোকস তার আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করে ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তিনি লেখেন, ‘আমি এই দলটাকে ভালোবাসি, ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করতে ভালোবাসি। আমি জানি আমরা ভুল করেছি, তবে ব্যর্থতা থেকেই মানুষ বেশি শেখে। কোচ বাজ (ম্যাককালাম) এবং রব কি-র সাথে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই খুশি।’

অ্যাশেজ চলাকালীন ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ কৌশল নিয়ে স্টোকস ও ম্যাককালামের মধ্যে মতপার্থক্যের গুঞ্জন উঠেছিল। রব কি সেই দ্বন্দের খবর অস্বীকার করলেও ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড স্বীকার করেছেন যে, বিপর্যয়ের পর কাউকে ছাঁটাই না করার সিদ্ধান্ত সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় নাও হতে পারে। তবে বোর্ডের মতে, স্টোকস ও ম্যাককালামের জুটি এখনো ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য সেরা।

মাঠের লড়াইয়ে এবারের অ্যাশেজ স্টোকসের জন্য সুখকর ছিল না। ব্যাট হাতে ১০ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১৮৪ রান। বল হাতে ১৫ উইকেট নিলেও পঞ্চম টেস্টে কুঁচকির চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এক অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ সামলাতে গিয়েও তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। আগামী ৪ জুন লর্ডসে শুরু হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তার আগে ডারহামের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা আছে স্টোকসের।