বর্ণবাদের শিকার হয়ে ক্যারিয়ার শেষ হয়েছিল যে ভারতীয় ক্রিকেটারের

ভারতীয় ক্রিকেটের এক সময়ের বিস্ময়বালক ছিলেন লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান। মাত্র ১৭ বছর বয়সে লেগ স্পিনের জাদুতে কুপোকাত করেছিলেন ইমরান খান ও সেলিম মালিকের মতো কিংবদন্তিদের। কিন্তু তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। এর কারণ হিসেবে মানসিক আঘাতকে দায়ী করেছেন এই সাবেক তারকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন ক্যারিয়ারজুড়ে সতীর্থ ও দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া চরম বর্ণবাদী আচরণের তিক্ত অভিজ্ঞতা।

শিবরামকৃষ্ণানের বর্ণবাদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে মাত্র ১৪ বছর বয়সে। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। স্কুলের ইউনিফর্ম পরেই মাঠে গিয়েছিলেন। সেখানে এক সিনিয়র ভারতীয় ক্রিকেটার তাকে গ্রাউন্ড স্টাফ ভেবে নিজের নোংরা জুতো পরিষ্কার করতে বলেন। শিবরামকৃষ্ণান বলেন, ‘আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তখনো বর্ণবাদ কী জানতাম না। শুধু অবাক হয়েছিলাম একজন মানুষ এমন আচরণ কেন করবে?’

তামিলনাড়ু রাজ্য দলে খেলার সময়ও নিস্তার পাননি শিবরামকৃষ্ণান। দলের প্রভাবশালী খেলোয়াড়রা তাকে নিয়মিত ‘কারুপ্পা’ (তামিল ভাষায় কালো) বলে ডাকতেন। এমনকি মুম্বাই, চণ্ডীগড় বা জলন্ধরে বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডিং করার সময় গ্যালারি থেকে দর্শকরা তাকে ‘কালিয়া, তেরা কেয়া হোগা’ (কালু, তোর কী হবে) বলে বিদ্রূপ করত। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল তার ১৭তম জন্মদিনে।

সেবার শিবরামকৃষ্ণানের গায়ের রঙের সঙ্গে তুলনা করে এক সিনিয়র খেলোয়াড় বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আরে সানি (সুনীল গাভাস্কার), তুমি তো ঠিক রঙের কেকই অর্ডার করেছ। কালো ছেলের জন্য একদম ডার্ক চকলেট কেক!’ এই মন্তব্যে কেঁদে ফেলেছিলেন তরুণ শিবরামকৃষ্ণান। তিনি জানান, ‘আমি কাঁদছিলাম এবং কেক কাটতে রাজি ছিলাম না। পরে সুনীল গাভাস্কার আমাকে সান্ত্বনা দেন এবং আমি চোখের জল মুছতে মুছতে কেক কাটি।’

শিবরামকৃষ্ণান মনে করেন, এই ধরনের নিয়মিত মানসিক হেনস্তা তার আত্মবিশ্বাসে চির ধরিয়েছিল। মাঠে ভালো করার চাপ তো ছিলই, তার ওপর নিজ দলের ভেতরেই গায়ের রঙ নিয়ে এমন নিচু মন্তব্যের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের ভেতরে এই বর্ণবাদের বীজ অনেক আগে থেকেই ছিল, যা অনেকের ক্যারিয়ারই নষ্ট করেছে।