তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষের এ সময়ে তথ্য পাওয়ার নানা উৎস সৃষ্টি হলেও সংবাদপত্রের আবেদন কমেনি একটুও। সোশ্যাল মিডিয়া আর ওয়েবপোর্টালে চটজলদি নানা বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না প্রায়ই। সৃষ্টি হয় গুজব। যা ডেকে আনে ধ্বংস আর অসংগতি। অপরদিকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করে প্রকাশিত হয় বলে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। সংবাদপত্রে লেখা প্রকাশ তাই এখনো মর্যাদার। সংবাদপত্রগুলোও পাঠকদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে লেখা আহ্বান করে। সম্পাদকীয় ও ফিচার বিভাগের পাঠকরা লিখতে পারেন। তবে সম্পাদকীয় বিভাগে অপেক্ষাকৃত গুরুতর বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা লিখে থাকেন। তাই সংবাদপত্রে লেখালেখি শুরু করতে পারো, ফিচার বিভাগে ফিচার লিখে। সংবাদপত্রে লেখালেখি কিছু জিনিস মাথায় রেখে লিখলে লেখাটি যেমন আকর্ষণীয় হয়, তেমনি প্রকাশের সম্ভাবনাও বাড়ে। যদি তুমি সংবাদপত্রে লিখতে চাও তাহলে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রথমেই ঠিক করতে হবে, সংবাদপত্রের কোন পাতায় বা বিষয়ে তুমি লিখতে চাও। যে পাতা বা ক্রোড়পত্রে লিখতে চাও সেটি ভালো করে পড়তে হবে। সেখানে কী ধরনের লেখা, কত শব্দের লেখা প্রকাশিত হয় এসব বুঝতে হবে। প্রয়োজনে ওই ক্রোড়পত্রের বিগত দুবছরের সব সংখ্যা পড়তে পারো। ই- পেপারে এটা একদম ফ্রি পড়া সম্ভব। পাতার চরিত্র না বুঝে লিখতে যাওয়া চরম বোকামি হবে।
লেখার জন্য সমসাময়িক কিংবা এমন বিষয় খুঁজে বের করো যার প্রতি মানুষের তীব্র আকর্ষণ রয়েছে। বিষয়টি চমকপ্রদ হলে পাতার সম্পাদক অগোছালো লেখাও ঠিকঠাক করে প্রকাশ করেন। সে জন্য লেখা বিষয়টি আকর্ষণীয় হওয়া জরুরি। কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর ওপর আগে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সে বিষয়ে লেখার আগে খুঁজে বের করতে হবে এমন নতুন কিছু, যা আগে লেখা হয়নি। উপস্থাপনায় আনতে নতুন ভঙ্গি।
একই লেখা বারবার পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পাঠাবে না। লেখাটিতে কীভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নাও। যদি মনে হয়, বিষয়টির আবেদন হারিয়েছে তাহলে নতুন বিষয়ে নতুনভাবে লেখ।
ফিচার হার্ড নিউজ নয়। ফিচার হচ্ছে গল্প। পার্থক্য হলো, গল্পে কল্পনা থাকে। কিন্তু ফিচারে সব সত্য লিখতে হয়। ফিচার এমন হতে হবে, যেন পাঠক লেখাপড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। পাঠককে ধরে রাখার ব্যাপারটা থাকা চাই। তাই ফিচারের শব্দ, গাঁথুনি, ধারাবাহিকতা, আবেগ এসব ঠিকঠাক থাকতে হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ফিচার মানুষ বেশি পড়ে। প্যারা প্যারা করে লেখা ফিচার পাঠককে বেশি আকর্ষণ করে। পড়তে সুবিধা হয়। যে বিষয়েই লেখ না কেন, সেটা নিয়ে নেটে পড়াশোনা করে নাও। আবার নেট থেকে লেখা এনে হবহু বসিয়ে দেবে না। এই প্রবণতা অনেক নতুন লেখকদের মধ্যে দেখা যায়।
বড় লেখা অনেক সময় গতি হারিয়ে ফেলে। তথ্যে ভুল হতে পারে। আবার সাংঘর্ষিক ব্যাপার চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এ বিষয়ে সতর্ক থাকো। এই যেমন তুমি লিখলে তার কোনো বড় ভাই নেই। আবার লেখার এক জায়গায় গিয়ে লিখলে তিনি তার বড় ভাইয়ের কাছে কাজ শিখেছেন। এটা তথ্যগত ভুল।
যে বিষয়ে আপনি নিজের যথেষ্ট ধারণা নেই, তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান তা কখনোই লিখবে না। এখন তথ্য যাচাইয়ের নানা উৎস রয়েছে। একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে নাও।
লেখা শেষ করে বারবার পড়। সহজপাঠ্য ও শ্রুতিমধুর করার চেষ্টা করো। ছোট বাক্য, সহজ শব্দে লেখার চেষ্টা করো। জটিল শব্দ পরিহার করো। সম্ভব হলে কাউকে পড়তে দাও, যে তোমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবে।
লেখা প্রকাশ হওয়ার পরে তা আবার পড়ো। তোমার পাঠানো লেখা ও প্রকাশিত লেখার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করো। কোনো জায়গায় কী ধরনের শব্দ, বাক্যযোগ করা হয়েছে তা খুঁজে বের করো। বানান ভুল থাকলে তা ঠিক করে কী লেখা হয়েছে দেখো। পরের লেখাটিতে এই ভুলগুলো যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখো। এভাবে ধীরে ধীরে লেখক হিসেবে তুমি দক্ষ হয়ে উঠবে।
লেখক : ফিচার রাইটার