তিন মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন আহমাদ তাহমিদ খান রাইয়ান (২৫)। ঈদের ছুটি শেষে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে ফিরবেন বলে মা, বোন ও ভাগ্নেকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় কোনোমতে বোন বেঁচে ফিরলেও রাইয়ান ও তার মা রেহেনা আক্তার (৬১) এবং ভাগ্নে তাজবিদ (৭) নিহত হয়েছেন। রাইয়ানের বাড়ি রাজবাড়ী পৌরশহরের ভবানীপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ইসমাইল হোসেন খান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিন মাস আগে তার বাবা ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে রাইয়ান সবার ছোট। তার বড় দুই বোন পেশায় চিকিৎসক। তারা সবাই ঢাকায় থাকেন। একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে এসেছিলেন। দুদিন আগে রাইয়ানের এক বোন ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরেন।
গত বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় রাইয়ানের বোন বাস থেকে বের হয়ে সাঁতরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পারে ওঠেন। রাইয়ানের মা রেহেনা আক্তারও পানিতে ভেসে উঠলে তাকে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। রাইয়ান ও তার ভাগ্নে আর বের হতে পারেননি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করলে রাইয়ান ও তার ভাগ্নে তাজবিদের মরদেহ পাওয়া যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পৌরশহরের ভবানীপুর রাইয়ানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাইয়ানকে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী তাদের বাড়িতে এসেছেন। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশেই তিনজনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর দুপুর ১২টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ঈদগাহ মাঠে রাইয়ানের দ্বিতীয় জানাজা শেষে ভবানীপুর পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
রাইয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। গতকাল এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, রাইয়ানের মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি রাইয়ানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।