এমবাপ্পের ঝলকে ব্রাজিলকে হারাল ১০ জনের ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোতে যেন এক টুকরো ব্রাজিল ফুটবল নেমে এসেছিল। গ্যালারির ৬৬ হাজারের বেশি দর্শকের সিংহভাগই ছিলেন হলুদ জার্সিধারী। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সমর্থকদের সেই গর্জন থামিয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই জালের দেখা পেলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তাঁর এবং হুগো একিতিকের গোলে প্রীতি ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।

জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল, কিন্তু ৩২ মিনিটেই সব সংশয় উড়িয়ে দেন তিনি। ওসমানে ডেম্বেলের দুর্দান্ত এক থ্রু বল ধরে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে। তাঁর এই গোলেই লিড নেয় ফ্রান্স। গত ডিসেম্বরে বাঁ-হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর এটাই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিপাকে পড়ে ফরাসিরা। ৫৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে বিপজ্জনকভাবে বাধা দেওয়ায় লাল কার্ড (ভিএআর রিভিউয়ের পর) দেখে মাঠ ছাড়েন দায়ো উপামেকানো। তবে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও দমে যায়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ৬৫ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন লিভারপুলের এই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হুগো একিতিকে।

দুই গোল খেয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৭৮ মিনিটে লুইজ এনরিকের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান ২-১ করেন ব্রেমার। ম্যাচের বাকিটা সময় ১০ জনের ফ্রান্সের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত হার মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় কার্লো আনচেলত্তির দলকে।

ম্যাচটি দেখতে জিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন এনবিএ তারকা জেসন ট্যাটামসহ বোস্টন সেলটিকসের খেলোয়াড়রা। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলিও ছিলেন গ্যালারিতে। বিশ্বকাপের আগে এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফক্সবরো শহরটিও নিজেদের প্রস্তুতির জানান দিল।

এই জয় ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সকে মানসিকভাবে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে। অন্যদিকে, হারলেও ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচ ছিল নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার বড় এক সুযোগ।