ফেরির অপেক্ষায় পচছে তরমুজ দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীবাহী বাসের চাপ ও তীব্র ফেরি সংকটে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দিনের পর দিন আটকা পড়ে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকবোঝাই তরমুজ পচে যাচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। অধিকাংশ ট্রাকেই তরমুজ বোঝাই। অনেক চালক তিন থেকে চার দিন ধরে অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে পারছেন না।

চরফ্যাশন থেকে আসা ট্রাকচালক মো. ফিরোজ বলেন, ‘দুই হাজারের বেশি তরমুজ নিয়ে তিন দিন আগে ঘাটে এসেছি। এখনো পার হতে পারিনি। তরমুজ থেকে পানি বের হচ্ছে, সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ট্রাকচালক আবুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, ‘একদিকে খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট, অন্যদিকে তরমুজ নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। আমরা ভাড়া পাব কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।’ এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ফেরিতে উঠতে ঘাট ইজারাদারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে হয়রানি ও কখনো মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি চালকদের।

তরমুজচাষি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করেছেন। ভালো দামের আশায় নিজেই চট্টগ্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু দুদিন ধরে ঘাটে আটকা পড়ে আছেন। ‘আর এক-দুই দিন থাকলে বিক্রির মতো তরমুজ থাকবে না’ এভাবে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘ঈদের কারণে যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেশি থাকায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক কম পারাপার হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, এই রুটে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি বিকল রয়েছে, যা মেরামতাধীন। পাশাপাশি নতুন একটি ফেরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।