নীলফামারীতে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

নীলফামারীতে কালবৈশাখি ঝড়ের সঙ্গে স্মরণকালের সর্বোচ্চ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও শিলার আঘাতে ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়ো গেছে। তবে বৃষ্টির পানির চেয়ে শিলা বেশি পড়ায় মাটিতে নুহে পড়েছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত। ব্যাপক ক্ষতির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১২টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলা বৃষ্টি আঘাত হানে । এতে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে টিনের ঘরবাড়িসহ কৃষি জমির ফসল, আলু, গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, তামাক ও কলাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় শিলার আঘাতে গাছের পাতা ঝরে গেছে এবং কাঁচা ফল নষ্ট হয়ে গেছে।

শুধু বসতবাড়িই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি মন্দিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত তীব্র শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।

ডিমলা উপজেলার কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু হয়, কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আলুতে আগে ক্ষতি, এখন আবার অন্য ফসলও শেষ।

ডোমার চিলাহাটি এলাকার কৃষক সুমন মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতে কালবৈশাখি ঝড় বৃষ্টির সঙ্গে ছোট ও মাঝারি সাইজের শিলাবৃষ্টিতে কলা ও মরিচের ক্ষেত মাটিতে নুহে পড়েছে।

এবিষয়ে ডিমলা উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, রাতে কালবৈশাখি ঝড় হয়েছে। এতে ঝড় বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয় । আগামী কয়েকদিন ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের চেষ্টা চলছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।